প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ ১৪০ থেকে ২৬০ টাকা। বিপরীতে বিক্রয়মূল্য মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। এটা হলো সরকারি মালিকানাধীন ১৫ চিনিকলের অবস্থা, যার মধ্যে জিল বাংলা সুগার মিলস এবং শ্যামপুর সুগার মিলসও রয়েছে। এ দুই কোম্পানি আবার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা মূলধনি উভয় কোম্পানি প্রতিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে প্রতি বছর লোকসান গুনছে। এসব কোম্পানির শেয়ারদর মাঝেমধ্যে ব্যাপক উল্লম্ম্ফন দেখে বোঝার কোনো উপায়ই নেই, মূল ব্যবসা করুণ দশায়। এর কারণ সরকারের ৫১ শতাংশের মালিকানায় থাকা লেনদেনযোগ্য বাকি শেয়ার খুব কম। এ সুযোগে শেয়ারবাজারের জুয়াড়ি চক্র নিজেরা ওই শেয়ারের বড় অংশ কিনে নিয়ে নানা মুখরোচক গল্প ছড়িয়ে শেয়ারদর বাড়ায়। সাধারণ বিনিয়োগকারী তাতে আকৃষ্ট হয়ে শেয়ার কেনা শুরু করলে বেশি মূল্যে গছিয়ে দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করছে। চিনিকলগুলোর জন্য যন্ত্রপাতি উৎপাদনকারী রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বরের অবস্থা অবশ্য এতটা করুণ নয়। ২০১৯-২০ সালের আগে মুনাফায় ছিল কোম্পানিটি। গত দুই বছর ধরে লোকসানে।

জিল বাংলা সুগার মিলস :জামালপুর জেলায় প্রতিষ্ঠিত এ চিনিকলের প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ ১৪০ টাকা। মাত্র ছয় কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান ৪৯৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে লোকসান করেছে ৩৭ টাকা। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট লোকসান ছিল ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বা ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে ১১৫ টাকা ৯৭ পয়সা লোকসান দেয়। অথচ এই জিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ার গত বৃহস্পতিবারও ১৫৮ টাকায় কেনাবেচা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ শেয়ার ১১৩ টাকা থেকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৫২ টাকা ছাড়ায়। এক মাস আগে দর উঠেছিল ১৭০ টাকা।

শ্যামপুর সুগার মিলস :রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত শ্যামপুর সুগার মিলস। পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান ৫৬২ কোটি টাকা। ২০২০-২১ হিসাব বছরে নিট লোকসান ৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ১০ টাকার শেয়ারে ১২৫ টাকা লোকসান করেছিল। চলতি হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে লোকসান হয়েছে ৪৪ টাকা ১০ পয়সা। অথচ শেয়ারবাজারে এ কোম্পানির শেয়ারদর এখন ৭৫ টাকা। হুটহাট এ শেয়ারের দরে বড় উল্লম্ম্ফন হয়। যেমন ২০২০ সালের ৯ জুলাই ২৩ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। এর ঠিক দুই মাস পর দর ওঠে ৮২ টাকা।
রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর :কিছুটা ভালো অবস্থায় দুই কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর। যদিও এরও পুঞ্জীভূত লোকসান ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম ছয় মাসে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে লোকসান ৯ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট লোকসান ছিল ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। গত বুধবার ডিএসইতে এর শেয়ার ৯৯০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। গত বছরের ২৭ জুলাই ছিল ৭৩৫ টাকা। আড়াই মাসের ব্যবধানে ৮ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৩৯৫ টাকা দর ছাড়ায়। পরের আড়াই মাসে ৯০০ টাকার নিচে নামে।