রোজার ঈদ সামনে রেখে পোশাকের দাম বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার নামে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডের আইআরও নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতারণা হাতেনাতে ধরা পড়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান চালায় অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল সমকালকে বলেন, গত শনিবার একজন ক্রেতা ৫০ শতাংশ ছাড়ে দুই হাজার ৪৯০ টাকা দামের একটি পাঞ্জাবি কেনেন ওই প্রতিষ্ঠান থেকে। তার অভিযোগ, পাঞ্জাবিটিতে তিনটি স্টিকার লাগানো। প্রথম স্টিকারে লেখা দুই হাজার ৪৯০ টাকা, তার নিচে দ্বিতীয় স্টিকারে লেখা এক হাজার ৭৯০ এবং সবচেয়ে নিচে তৃতীয় স্টিকারে লেখা এক হাজার ১৯০ টাকা।

তিনি বলেন, এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গতকাল অভিযান চালানো হয় ওই প্রতিষ্ঠানে। দেখা গেছে, এভাবে আরও কয়েকটি পোশাকের গায়ে ভিন্ন ভিন্ন দামের স্টিকার লাগানো রয়েছে। কোনোটিতে দুই স্টিকার আবার কোনোটিতে তিনটি স্টিকার লাগানো রয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে, একই দিনে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সমকালকে বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ঈদে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভেজাল সেমাই নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) সনদপত্রের শর্ত পরিপালন না করে এবং নোংরা পরিবেশে সেমাই উৎপাদন করছে আশার আলো ও মিতালি সেমাই নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এই অপরাধে আশার আলোকে ২০ হাজার এবং মিতালী সেমাই কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।