চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। আকার দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮২৪ ডলার বা ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ৬ থেকে ৭ মাসের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার চলতি অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে।

গত অর্থবছরে (২০২০-২১) চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার বা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ২৩৩ ডলার বা ২১ হাজার ৭৫২ টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের। সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রক্ষেপণ ছিল, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের অনুমান আরও কিছুটা কম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

আজ মঙ্গলবার জিডিপির হালনাগাদ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দেন। চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এত উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলা ব্যবস্থাপনায় সফল হয়েছে সরকার। এ সূচকে ১২১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ পঞ্চম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষস্থানে আছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের ফলে রপ্তানি আয় বেড়েছে। প্রবাসী আয় বেড়েছে। এসবের সুফল হিসেবেই এত বেশি হারে জিডিপি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, করোনা থেকে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি- এটা সুস্পষ্ট। তবে করোনা মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ না হলে জিডিপি আরও বেশি হতে পারতো বলে মনে করেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। এজন্য চলতি হিসাবে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার ছেড়ে দিয়ে সমন্বয় করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ ২৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। বাকি ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ সরকারি বিনিয়োগ। মাথাপিছু আয়-সংক্রান্ত এক প্রশ্নে এম এ মান্নান বলেন, মাথাপিছু আয়ের হিসাবও ঠিকই আছে। মানুষ দেদারছে কেনাকাটা করছে। আয় বেড়েছে বলেই যা সম্ভব হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে ড. শামসুল আলম বলেন, কোটিপতি এবং ভূমিহীন সবার আয়ের গড় ধরে মাথাপিছু জাতীয় আয় নির্ধারণ করা হয়। পদ্ধতিটি শতভাগ সঠিক নয়। তবে এখন পর্যন্ত বিকল্প পদ্ধতিও বের হয়নি।