সিগারেটের কর সংক্রান্ত স্কোরকার্ডে এখনও অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ১৬০টি দেশের সিগারেট করনীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস শিকাগোর (ইউআইসি) হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইনস্টিটিউট। 

এ দেশগুলোর সিগারেট কর নীতিমালা মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে সিগারেটের দাম, সহজলভ্যতা, করকাঠামো এবং খুচরা মূল্যে করের অংশ এই চারটি বিষয়কে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

বুধবার এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশ অংশের ফলাফলে বলা হয়, মোট ৫ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ২ দশমিক ৬৩। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর সহযোগিতায় গবেষণা ও তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

সিগারেট ট্যাক্স স্কোরকার্ডে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে বলা হয়, ক্রটিপূর্ণ একাধিক মূল্য স্তরের করকাঠামো এবং সিগারেটের দাম খুবই কম থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, সিগারেট ট্যাক্স স্কোরকার্ডে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রযেছে নিউজিল্যান্ড এবং ইকুয়েডর। উভয় দেশের স্কোর ৪ দশমিক ৬৩। এরপরে রয়েছে যুক্তরাজ্য ৪ দশমিক ৩৮ ও কানাডা ৪ দশমিক ২৫। এসব দেশে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে বিবেচিত একক দর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ৩৫ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন। ধূমপান না করেও ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বলেন, এ গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের কার্যকর তামাক কর পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখবে। করারোপের মাধ্যমে সিগারেটসহ সকল তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে হবে, তা নাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জন সম্ভব হবে না। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিটিএফকের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার প্রমুখ।

বিষয় : সিগারেটের কর ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস শিকাগো সিটিএফকে

মন্তব্য করুন