প্রকৃত বিক্রির তথ্য গোপন করে প্রায় ২১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে রানার অটোমোবাইলস। সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দাদের এক অভিযানে কোম্পানির ৭০ কোটির বেশি টাকার পণ্য বিক্রির তথ্য গোপন করার চিত্র ধরা পড়ে। এ অভিযোগে রানারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বুধবার অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তর জানায়, একজন ক্রেতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গোয়েন্দা দল দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটি মাসিক দাখিলপত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। পরিদর্শনের শুরুতে কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। এসব কাগজপত্রে ভ্যাট ফাঁকির আলামত থাকায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে রাখা কিছু বাণিজ্যিক ও ভ্যাটসংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করা হয়। এসব কাগজপত্র ও কোম্পানির সরবরাহ করা কাগজপত্রে বিক্রি ও ভ্যাট দেওয়ার মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য দেখা যায়।

তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৮৩৪ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট রিটার্নে এক হাজার ৭৬৪ কোটি টাকার বিক্রি দেখিয়েছে। প্রায় ৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করেছে।

বিক্রির তথ্য গোপন করে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভ্যাট আইন অনুসারে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ করা হয়। সুদ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ফলে মোট ভ্যাট ফাঁকি দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট আদায়ের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে চিঠি পাঠিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে রানার অটোমোবাইলস যথাযথভাবে ভ্যাট চালান জমা করছে কিনা, তার তদারকি জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সার্কেল ও বিভাগীয় অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রানার অটোমোবাইলস পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত একটি কোম্পানি। ময়মনসিংহের ভালুকায় এ কোম্পানির কারখানা রয়েছে। রানার বাণিজ্যিক আমদানিকারকও। রানার মোটরসাইকেল এবং থ্রি হুইলার আমদানি করে কোনো ধরনের পরিবর্তন না করে বিক্রি করে থাকে। পাশাপাশি সিকেডি অবস্থায় মোটরসাইকেল আমদানি করে তা সংযোজন করে করপোরেট গ্রাহক, ডিলার এবং শোরুমের মাধ্যমে বিক্রি করে থাকে।