আগের দামে কেনা বোতলজাত সয়াবিন তেল রাখা হয়েছিল মজুত করে। দাম বাড়ার পর বোতলের সেসব তেল এখন বিক্রি করা হচ্ছে খোলা হিসেবে। পুরোনো বোতলের তেলের চেয়ে খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় বোতল খুলে তা বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। দোকানে মিলছে না বোতলের তেল। গতকাল শুক্রবার রাজবাড়ী বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও আগের কেনা তেল এমন কৌশলে বেশি দামে বিক্রি করছে অনেক ব্যবসায়ী।

এদিকে অবৈধভাবে ভোজ্যতেলের মজুত ও বেশি দামে বিক্রিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে গতকালও অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। উদ্ধার করা হয়েছে মজুত করে রাখা সয়াবিন তেল। পরে এসব তেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি এবং জড়িতদের জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল রাজবাড়ী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত তেল চাইলেও কিছু দোকানদার বিক্রি করছে না। খোলা তেল বিক্রি করতেই বেশি উৎসাহী তারা। আর যারা বোতলজাত বিক্রি করছে তারা নিচ্ছে নতুন দাম, ১৯৮ টাকা প্রতি লিটার। আবার বোতলের তেলের 'সংকট' দেখিয়ে অনেক দোকানে খোলা তেলও বিক্রি হচ্ছে বর্তমান নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। খোলা সয়াবিন তেলের নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার ১৮০ টাকা হলেও ২০০ টাকারও বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজবাড়ী বাজারের এক খুচরা মুদি ব্যবসায়ী বলেন, তারা বোতলজাত তেল ১৯৮ টাকা লিটার এবং খোলা তেল ২০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। এখানে তাদের কিছু করার নেই। পাইকারি তেল কিনতে গেলে তাদের সরবরাহ করা হচ্ছে না। তারা যেভাবে কিনছেন সেভাবেই বিক্রি করছেন।

রাজবাড়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী রাকিবুল হাসান জানান, বোতলজাত তেল খোলা হিসেবে বিক্রির দুই-একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছিলেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ পাননি। তবে তারা বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছেন।

চট্টগ্রামের চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেটে ৭৬০ টাকায় কেনা সয়াবিন তেল ৯৮৫ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি টিম। গতকাল মার্কেটের মজুমদার স্টোরে অভিযান চালাতে গিয়ে এ প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে গোপনে মজুত করে রাখা দুই হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। বিক্রিতে অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকার রশিদ অ্যান্ড ব্রাদার্সে এক লিটারের প্রায় ৩০০ বোতল তেল জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ শহর বাজারে অভিযান চালিয়ে তীর কোম্পানির ডিলার কালীপদ অ্যান্ড সন্সের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা এক হাজার ৩০০ লিটার তেল পাওয়া যায়। ওই তেলও খুলে বিক্রি করা হচ্ছিল। জব্দ করা ওই তেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি এবং প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার মনোহর বাজারের রাজলক্ষ্মী ভান্ডার থেকে ২ হাজার ৮০০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয় ওই তেল। বেশি দাম রাখায় মাস্টার স্টোরকে জরিমানা করা হয় ৩ হাজার টাকা। মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার রিকাবীবাজার এলাকার শাহজালাল স্টোরে অভিযান চালিয়ে মজুত করা দুই হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পিরোজপুরের নাজিরপুরে বৃহস্পতিবার জব্দ করা ১০ হাজার ১০৪ লিটার তেল গতকাল ১৬০ টাকা লিটারে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়।