আজও অব্যাহত রয়েছে শেয়ারবাজারের দরপতন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেয়ারবাজারের দরপতন আটকাতে  ব্যর্থ হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এদিন লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইক্স আরো ৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। প্রতিবেদনটি লেখার সময় দরপতন আরো তীব্র হচ্ছিল।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেনে আসা ৩৭৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৩৭টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায় ৮৩ শেয়ারকে এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৫৭ শেয়ার। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত কেনাবেচা হয় ৩৩৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার।

এর আগেরদিন ডিএসইতে ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ারের দরপতন হয়েছিল। সূচক হারিয়েছিল ১৩৪ পয়েন্ট, যা গত ৭ মার্চের পর সর্বোচ্চ ছিল।কিন্তু আজ যেন কোনোভাবেই দরপতন না হয়, তা নিশ্চিতে সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরু করার আগে থেকেই মরিয়া ছিল বিএসইসি।

বাজার সূত্র জানায়, লেনদেন শুরুর আগে বড় ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রতি কড়া নির্দেশ ছিল- প্রি ওপেনিং সেশনে কেউ যাতে বড় বিক্রির আদেশ না দেয়। পতন রোধে আইসিবিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।

এর ফলও মিলেছিল। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরম্নতে প্রি-ওপেনিং মার্কেট সেশনের লেনদেনে ভর করে ডিএসইক্স সূচক ২২পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৫২ পয়েন্টে ওঠে। এর মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে গতকালের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৮৪ পয়েন্ট ছাড়ায়।

সূচককে ঊর্ধ্বমুখী করতে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ-হোলসিম, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনিক হোটেল, জিপিএইচ ইস্পাত, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মত শেয়ারগুলোর দর বাড়ানো হয়। এই দশ শেয়ারই লেনদেনের প্রথম ৫ মিনিটে সূচকে ৩৭ পয়েন্ট যোগ করেছিল।

এরপর ক্রয় চাপ কমে গেলে বিক্রির চাপে ফের দরপতন শুরু হয়। সকাল ১০টা ৭ মিনিট থেকে পরবর্তী ৩০ মিনিট পর ১০টা ৩৮ মিনিটে সূচকটি আগের অবস্থান থেকে ৮২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৪০২ পয়েন্টে নামে। এ পর্যায়ে ফের আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনে দরপতন ঠেকাতে চেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু তা ১০-১২ মিনিটের বেশি ধরে রাখা যায়নি। ১০টা ৫০ মিনিট থেকে ফের দরপতন শুরু হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই দরপতন অব্যাহত থাকতে দেখা যায়।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দরপতনের ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু কেন এ আতঙ্ক, তা সুস্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। সবার মুখে ঘুরেফিরে একই কথা শোনা যাচ্ছে, 'বাজার আরো পড়বে'।

এ আতঙ্ক দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবিকে সক্রিয় করতেও নানা চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারি ব্যাংকসহ নানা প্রতিষ্ঠান থেকে আইসিবি যে দীর্ঘমেয়াদী আমানত নিয়েছিল, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তা ফেরত দিতে চাপ ছিল। এ জন্য শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিক্রির কারণেও দরপতন হচ্ছে জেনে আইসিবিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিএসইসি। এরপর মূল ঘটনা জানতে পেরে ওই আমানত যেন নতুন মেয়াদে নবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

একইসঙ্গে আইসিবির মাধ্যমে শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে আগের ১০০ কোটি টাকার পর আরো ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বিএসইসি কাজ করছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় অন্তত ১৬ কোম্পানির শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হচ্ছিল।

দরপতন নিয়ে কেউ সরাসরি কথা বলতেও রাজি হচ্ছেন না। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, লেনদেনের শেষাংশে বিক্রির চাপ কমানোর পাশাপাশি অনেকে মিলে শেয়ার কিনে পতনের ধারা থেকে বের করে আসার ফের চেষ্টা চালানো হবে।