সোমবারের মতো যাতে বড় দরপতন না হয়, তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর আগে থেকে বেশ তৎপর ছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেনে অন্তত চার দফায় ব্যাপক চেষ্টা করে বড় পতন ঠেকাতে পেরেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সূচকে নিম্ন মাত্রার পতন ছিল। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। গতকাল লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২৪৪ কোটি টাকা কম।

সোমবার ৩৪৮ শেয়ার ও ফান্ডের দরপতনের পর গতকালও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২৪৫ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমে, যা মোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিপরীতে ৮৯টির দর বেড়েছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির দর। এ পতনে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৪০৩ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকটির এ অবস্থান গত বছরের ২৭ জুলাই বা সাড়ে সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের ১০ অক্টোবর এ সূচক ৭৩৬৮ পয়েন্টে ওঠার পর থেকে দরপতন হচ্ছে।

বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, দিনের শেষের সূচকের অবস্থান দেখে ঠিক বোঝা যাবে না, এদিন বাজারে কী ঝড় বয়ে গেছে। গত সপ্তাহের শেষ তিন কার্যদিবসের ১৩২ পয়েন্ট পতনের পর সোমবারের ১৩৪ পয়েন্ট পতন বাজারে আতঙ্ক ছড়ায়। এ আতঙ্ক থেকে বাজারকে বের করে আনতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে বিএসইসি থেকে ফোন করে সোমবারের তুলনায় কম দামে শেয়ার বিক্রির অর্ডার বসাতে না করা হয়। এর ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যায়। প্রি-ওপেনিং মার্কেটের লেনদেনের ভর করে সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতেই সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৫২ পয়েন্ট ছাড়ায়। পরের ছয় মিনিটে সূচকটি আরও ৪২ পয়েন্ট বা মোট ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৮৪ পয়েন্ট ছাড়ায়।

ঊর্ধ্বমুখী এ ধারা ৭ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। শেয়ার ক্রয়ের চাপ কমলে বেড়ে যায় বিক্রির চাপ। পরের মাত্র আধা ঘণ্টায় সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৮১ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৪০৩ পয়েন্টে নামে। এ পর্যায়ে আবার শেয়ার কিনে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। এ কারণে পরের ১০ মিনিটে সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬৪৩৬ পয়েন্টে ওঠে। এর পর ফের পুরোনো রূপে ফিরে যায় বাজার। ক্রমাগত দরপতনে দুপুর সাড়ে ১২টায় আগের দিনের থেকে ১১২ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩১৮ পয়েন্টে নামে। লেনদেনের শুরুতে যেসব শেয়ারে দর ভর করে সূচক বেড়েছিল, এ সময় ওই সব শেয়ারের দরপতনই সূচকের পতনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দরপতন বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও সমকালকে বলেন, এ দরপতনের কারণ শেয়ারবাজারের অভ্যন্তরীণ কোনো ইস্যুতে নয় বলে তিনি মনে করেন। দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা চলছে, তার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ সামাল দেওয়ার মতো এই বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নেই। তার পরও আইসিবিসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগে এনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পতন ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।