ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দেশে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে তারা বলছে, গত মাসে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে দেশের গ্রামাঞ্চলে; শতকরা হিসাবে যে হার ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

টানা তিন মাস ধরে ৬ শতাংশের বেশি থাকা সাধারণ মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে আরও বেড়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে; যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২১ সালের একই মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব দেখা যায় দেশের বাজারেও। এ সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বিবিএস বলছে, এপ্রিলে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়ে কমেছে।

সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের মাস মার্চে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর ২০২১ সালের এপ্রিলে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

খাদ্যে কমলেও গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়ে বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত মার্চে এ হার ছিল ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। এক বছর আগের এপ্রিলের চেয়েও তা বেড়েছে; ওই মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আর সার্বিক হিসাবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে এপ্রিলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

অর্থাৎ গত বছরের এপ্রিলে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া গিয়েছিল গত মাসে সেই পণ্য বা সেবা পেতে ১০৬ দশমিক ২৯ টাকা ব্যয় হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত মাসের মূল্যস্ফীতির এ হার গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের পর এত বেশি মূল্যস্ফীতি আর হয়নি। ওই মাসে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল।

তবে ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিন মাস ধরেই সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের উপরে রয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩০ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। অর্থমন্ত্রীও বলছেন বছর শেষে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মাসে শহরের চেয়ে গ্রামীণ এলাকায় বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে, ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের একই মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

আর গ্রামে এপ্রিলে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা এক বছর আগে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ ছিল।

এ সময়ে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ হয়েছে, যা আগের বছরের এপ্রিলে ছিল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অপরদিকে শহরাঞ্চলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি এ বছর এপ্রিলে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হয়েছে। ২০২১ সালের একই মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এসময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে, যা আগের বছরের এপ্রিলে ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা আগের বছর একই সময়ে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ ছিল।