ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার জানদি গ্রামে জোড়া খুনের দেড় মাস পরও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে শনিবার মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে নিহতদের পরিবার, গ্রামবাসী ও স্থানীয় নেতারা।

সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গার জানদি রেললাইনের ওপর মানববন্ধন করেন তারা। দুপুর ১২টার দিকে তারা ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নওয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা প্রায় আধাঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় দুপাশে কয়েকশ যানবাহন আটকে পড়ে। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তোলা হয়।

এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৭ এপ্রিল রাতে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন স্থানীয় সোলায়মান শরীফ ও কামরুল মাতুব্বর। আহত হন আমিনুর নামে আরেকজন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় কুটি মিয়া, জামাল শেখসহ ১৯ জনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত কামরুলের ভাই রুবেল মাতুব্বর। তবে এতদিন পরও স্থানীয় কৃষক রুহুল আমীন ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মানববন্ধনে বাদী রুবেল বলেন, এলাকায় একের পর এক অপকর্ম, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় সোলায়মান ও কামরুলকে হত্যা করা হয়। হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো আসামিপক্ষের করা প্রাণনাশের হুমকি ও মাদকের মামলায় তাঁদের স্বজন ও পক্ষের লোকজনকে হয়রানি করছে পুলিশ।

নিহত সোলায়মানের মা নিলুফা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকে মণিরে আমি বড় করছি। ওর বাবা ১০ বছর আগে মারা গেছে। নাতিডারে দেখবে কে? আমি শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই। খুনিদের ফাঁসি চাই।

ভাঙ্গা থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এক আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।