করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সময় ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে দেশেও বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এতে বেশ চাপের মুখে অর্থনীতি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট করা দরকার।

শনিবার ইংরেজি অর্থনৈতিক দৈনিক দ্য বিজনেস পোস্ট আয়োজিত 'অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং আসন্ন বাজেট' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, আগামী বাজেট প্রণয়নে মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এর বাইরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ে উত্তরণে সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রাখতে হবে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিজনেস পোস্টের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এজন্য দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আমদানিনির্ভরতার অভ্যন্তরীণ বাজারেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রান্তিক মানুষদের স্বস্তি দিতে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতা এবং সুবিধা বাড়াতে হবে। তবে সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের খরচ, সঞ্চয়পত্রের সুদ যোগ করে সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ বড় করে না দেখিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে প্রণোদনা পৌঁছাতে হবে।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, বাজেটের আকার বড় করায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না। বরং আকার বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত বাস্তবায়ন বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কারণে কর্মসংস্থান কমছে। এ অবস্থায় কর্মসংস্থানে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থবছরের শেষে কেবল টাকা ছাড় করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়। দেখা যায়, বছরজুড়ে এডিপির ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যার ৪৫ শতাংশ হয়েছে শেষ তিন মাসে। শুধু ৩০ জুন চেক স্বাক্ষর করে বাজেট বাস্তবায়ন বাড়ানো হয়। ফলে গুণগত মানের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না, অর্থের অপচয় হয়। গুণগত মানের বাজেট বাস্তবায়নে জন্য তিন বছরের 'রোলিং সিস্টেম' চালু করা দরকার। কোনো বছর প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে পরের বছরও ওই বরাদ্দ পাবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রপ্তানি থেকে আমদানি অনেক বেড়ে যাওয়ায় ব্যালান্স অব পেমেন্টে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যা আরও কিছু দিন থাকবে। ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় হুন্ডি বাড়বে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থাই বলে দেয়, এখানে ব্যবসায়ীরা কতটুকু চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ব্যবসায় পরিবেশ সন্তোষজনক নয় বলে ভিয়েতনাম বা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় অনেক কম বিদেশি বিনিয়োগ। এখানে কাজ করা দরকার।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের কর ব্যবস্থা সেকেলে। যাঁরা ট্যাক্স দেন, এনবিআর কেবল তাঁদের চেপে ধরে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিসিসিআইয়ের পরিচালক খায়রুল মজিদ মাহমুদ, গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ, বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান, ডিবিএর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও, বিডি-জবসের এমডি ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।