২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গঠন করা ৯০০ কোটি টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিলের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এ ঋণ তহবিল থেকে শুধু মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারে।

গত কিছুদিন ধরে চলা ব্যাপক দরপতনের প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ চৌধুরী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সলীম উল্লাহর সঙ্গে করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছেন। রোববার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক হয়।

এরপর সন্ধ্যায় ঘূর্ণায়মান তহবিলের আকার ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রণায়ে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার এ বিষয়ে ফিরতি চিঠিতে এ সম্মতির কথা চিঠি দিয়ে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল থেকে সুদ বাবদ আদায় করা ১৫৩ কোটি টাকাও এ তহবিলে যুক্ত হবে।

২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধস নামার পর মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বল্প সুদে ৯০০ কোটি টাকার ঋণ তহবিল করে দিয়েছিল সরকার।

২০১১ সালের জাতীয় বাজেট থেকে এ অর্থায়ন করা হয়েছিল।

ওই ঋণের সুদসহ ৮৫৬ কোটি টাকা আদায় হয়। শেয়ারবাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ওই তহবিলটিকে ঘূর্ণায়নমান ঋণ তহবিলে রূপান্তর করেছিল। এ তহবিলে সুদসহ আরও ১৫৩ কোটি টাকা যোগ হয়েছে।

এ তহবিল থেকে এখন ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক নিজে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বা তাদের গ্রাহকদের (বিনিয়োগকারী) মার্জিন ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে ঋণ নিতে পারে।

এই এক হাজার নয় কোটি টাকার তহবিলটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ঋণ তহবিলটির মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বাজার সংক্ষেপ:

এদিকে টানা আট দিনে ৫৫৫ পয়েন্ট পতনের পর প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ১১৮ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ২৬১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে।

দরপতন ঠেকাতে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠিত রোববারের বৈঠকের খবরের পর এ উত্থান হল।

সোমবার ৩৪৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৯ শেয়ার এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ১৪টির দর।

সোমবার দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার, যেখানে রোববার কেনাবেচা হয়েছিল ৬৮২ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার। অর্থাৎ সূচক বাড়লেও লেনদেন সোয়া ২৩ কোটি টাকা কমেছে।