বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার বোরো ধান চাষে ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। জমিতে পানি জমে থাকায় ঝড়ে পাকা ধানের গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এতে পাকা ধান জমিতেই পচছে। পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকের মজুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের লোকসান বেড়েছে।

জেলার অন্যতম শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত নন্দীগ্রাম উপজেলায় কয়েক দফা ঝড় ও বৃষ্টির কারণে মাঠের পর মাঠ পাকা ধানগাছ পানিতে পড়ে আছে। শত শত বিঘা জমিতে পানিতে ডুবে থাকা পাকা ধানে চারা গজাচ্ছে। ফলে ধান চাষে খরচের টাকাও উঠছে না। ১০ মণ ধানের টাকায় এক বিঘা জমিতে ধান কাটাতে হচ্ছে। ঝড় ও বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় পাকা ধান ডুবে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক কষ্টে জমির ধান কেটে বাড়ি নিয়ে এলেও বৃষ্টির কারণে শুকাতে না পারায় ধানে দুর্গন্ধ হওয়ায় বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা।

পানিতে ডুবে যাওয়া ধান নষ্ট হওয়ায় ফলন হয়েছে প্রতি বিঘায় মাত্র ১০ থেকে ১৮ মণ। চলতি বোরো মৌসুমে একটি পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে ধান নষ্ট হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের জমি পরিত্যক্ত রেখেছেন। কাটা-মাড়াই না করে পরিশ্রমের ফসল জমিতেই ফেলে রেখেছেন অনেকে।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নন্দীগ্রামের পেংহাজারকি, তুলাশন, বীরপলী, রিধইল, দোহার, কাথম, ভাটগ্রাম, আমগাছি, ভাটরা, নিনগ্রাম, খরনা, তেঘর, দলগাছা ও পৌর এলাকার নামুইট এলাকায়। স্থানীয় কৃষক মজিবর রহমান বলেন, একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি আগে ৩০০ টাকা ছিল। এখন দিতে হচ্ছে ৮০০ টাকা। তাও মিলছে না।

কাথম বেড়াগাড়ি গ্রামের বর্গাচাষি কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার প্রতিবিঘা জমির ধান কাটাতে শ্রমিককে ৭ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। এক বিঘা জমিতে মোট ২০ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয় হলেও ধান হয়েছে ১৮ মণ। ফড়িয়ারা ৯০০ টাকা মণ দরে ধান কিনেছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ৪ হাজার ৯৫০ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

ভাটরা গ্রামের কৃষক গোলাম হোসেন বলেন, তার নিজের চার বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হওয়ায় তা পরিত্যক্ত রেখেছেন। প্রতিবিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকরা সাড়ে ৮ হাজার টাকা চেয়েছেন। ওই ধান কাটতে গেলে শ্রমিকের খরচই উঠবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আদনান বাবু বলেন, ৬১ হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধান দ্রুত কর্তনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গড়ে প্রতিবিঘা জমিতে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।