বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা কাটাতে এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদা ঘোষিত দরে ডলার বেচাকেনা করবে সব ব্যাংক। 

নির্ধারিত দরের সঙ্গে বড় কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় আসবে ওই ব্যাংকই বিল কেনা ও ডিসকাউন্টিং করবে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ বৈঠক ডাকা হয়। 

বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সেলিম আর এফ হোসেনসহ একাধিক ব্যাংকের এমডি অংশ নেন। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে প্রবাসীদের থেকে কী দরে ব্যাংক ডলার কিনবে, কেমন দরে রপ্তানি বিল কিনবে, আমদানিতে কেমন দর হবে তা ঠিক কববে বাফেদা। নির্ধারিত দরের একটি কপি প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। নিয়মিতভাবে এই দর তদারক বরবে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত আন্তঃব্যাংক দর বাস্তবসম্মত নয় বলে কয়েকজন এমডি মত দেন। 

চলতি অর্থবছর কয়েক দফায় প্রতি ডলারে ৩ টাকা ১০ পয়সা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে প্রবাসীদের থেকেই ৯৫ টাকা পর্যন্ত দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। 

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয়তার আলোকে ডলার বিক্রি অব্যাহত রাখবে। যে ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি হবে ওই ব্যাংকেই রপ্তানি বিল ভাঙ্গাতে হবে। রপ্তানিমূল্য ডিসকাউন্টটিংও করতে হবে ওই ব্যাংকে। আর বাফেদা ও এবিবি অভিন্ন বিনিময় হার নির্ধারণ করবে। সব ব্যাংক যা মেনে চলবে। বাফেদার পক্ষ থেকে একটি আন্তঃব্যাংক দর প্রস্তাব করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করবে।