দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রা খরচে সতর্ক হওয়া দরকার। আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিবেচনায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঠিক রাখতে 'মিতব্যয়ী পদক্ষেপ' হিসেবে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যাতে অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি না হয়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ের সামষ্টিক অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের উচ্চ ভর্তুকি ব্যবস্থাপনাও দক্ষতার সঙ্গে করার দরকার। তা না হলে ভর্তুকি বাবদ ব্যয় বেড়ে যাবে। আর সার্বিকভাবে আগামী মাসগুলোতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রের আমদানি বেড়েছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। ফলে গত জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি এলেও ব্যাপকভাবে কমে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে কমছে টাকার মান।
এমসিসিআইয়ের প্রক্ষেপণ অনুসারে, বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে চলতি মাসে এ হার বেড়ে ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ এবং বাজেট বাস্তবায়ন ভালো না
হওয়ার দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। বেকারত্ব পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগ কম হওয়াও অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এতে। তবে সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে বলেই মনে করছে এমসিসিআই।