অর্থনীতিতে অস্থিরতা কমাতে ও ডলারের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে বেশকিছু সিদ্ধান্ত। গত মঙ্গলবার নতুন প্রজ্ঞাপন করে ১৩৫ ধরনের বিলাসপণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক্ক শূন্য বা ৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুসংবাদ আছে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চিত্রেও। করোনাকালের বিশেষ সময়কে বিবেচনায় না আনলে গত ১০ বছরের মধ্যে এবারই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে সর্বনিম্ন। এ কারণে সাশ্রয় হয়েছে ডলারের। কারণ গাড়ি আমদানি করতে হলে এলসি মূলে পরিশোধ করতে হয় বিপুল পরিমাণ ডলার।

বিলাসবহুল গাড়ির আমদানি কমানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, 'যুদ্ধের কারণে কিছুটা অস্থির এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমাটা ভালো খবর। তবে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে আরও অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। দেশের টাকা যাতে বিদেশে পাচার না হয়, সেজন্য করতে হবে দৃষ্টান্তমূলক কিছু।'

জুনিয়র চেম্বার চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, 'যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি এখন টালমাটাল। বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমেই বাড়ছে। সেই তুলনায় এখনও ভালো আছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। তবে সতর্কতা আরও বাড়াতে হবে আমাদের। ব্যবসায়ীদের নিতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা।'

চলতি অর্থবছরে ক্রমেই কমছে গাড়ি আমদানি
দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে। এ দুই বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া গাড়ির তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ মে পর্যন্ত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি এসেছে ১১ হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গাড়ি আসে যথাক্রমে- ৯৩২, ১৪৪৮, ১৫৮১, ৯৩২, ১১২৬ ও ৯৫২টি। চলতি বছরে আরও কমতে থাকে আমদানি। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত গাড়ি এসেছে যথাক্রমে- ৪৮৮, ১২৮০, ৭৮৪, ৩৭৩ ও ১১৮২টি। মে মাসে এখন পর্যন্ত কোনো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আসেনি বাংলাদেশে।

১০ বছরে এবারই এসেছে সর্বনিম্ন গাড়ি
করোনার বিশেষ সময় বাদ দিলে গত ১০ অর্থবছরের মধ্যে এবারই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি এসেছে সবচেয়ে কম। আমদানির তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯ হাজার ৫৮৮, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৭ হাজার ৩৫৩, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৪২৭, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৫, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৪৬৭, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০ হাজার ১৪৯, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৭৫, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ হাজার ৫০২, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ হাজার ৮০৪, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৪৪৯ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ১০৮টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কেন কমলো গাড়ি আমদানি
ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধরে রাখতে ও ডলার সংকট দূর করতে গত মঙ্গলবার ১৩৫ ধরনের পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক্ক বৃদ্ধি করেছে সরকার। যদিও এই তালিকায় রিকন্ডিশন্ড বা নতুন গাড়ির নাম নেই। কিন্তু কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বিলাসবহুল গাড়ির আমদানি কেন কমলো- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক মহাসচিব হাবিবুর রহমান বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ির দাম এখন অনেক বেশি। যুদ্ধের কারণে জাপানেও অস্থির অর্থনীতি। এটির প্রভাব পড়েছে আমাদের আমদানিতেও।'