প্রথমবারের মতো চার ক্যাটাগরিতে ৩৯ জন খামারি ও উদ্যোক্তাকে 'ডেইরি আইকন' পুরস্কার দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে প্রত্যেক উদ্যোক্তা পেয়েছেন ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় দুগ্ধ মেলা। মেলার উদ্যোক্তাদের স্টলে শোভা পেয়েছে নানা রকম দুগ্ধজাত পণ্য। ঘি, ছানা, রসমালাই, সর মালাই, ক্ষীরপুলিসহ নানা ধরনের দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয় দিনভর। পণ্য কিনতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে সামনে নিতে যেখানে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। ভবিষ্যতেও উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমরা দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু মাছ, মাংস ও ডিমে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেক শিক্ষিত মানুষ এখন প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করছেন। বেসরকারি খাত ছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন সম্ভব হতো না। দুধ উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি খাতকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান বার্জার, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম, প্রকল্পর চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশে দুধের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানাভাবে খামারিদের সহায়তা দিচ্ছে। বাড়ছে উদ্যোক্তা। ডেইরি খাতে ঝুঁকছেন উচ্চশিক্ষিতরাও। তাঁদের হাত ধরে মাংসের পাশাপাশি বাড়ছে দুধের উৎপাদন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে দুধের উৎপাদন ছিল ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টন। ১০ বছরের ব্যবধানে ২০২০-২১ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টনে।