সস্তায় মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণের মাধ্যম পোলট্রি খাত করোনাকাল থেকেই সংকটে। সেই সংকট আরও গভীর হয়েছে প্রাণিজ খাদ্যের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির দাম বৃদ্ধির কারণে। গত দুই বছরে সয়াবিন মিলের দাম ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। অন্য কাঁচামালের দর বেড়েছে ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে কিছু পোলট্রি খামার ও ফিডমিল।

এ পরিস্থিতিতে এ শিল্পের কাঁচামাল ও বিনিয়োগের জন্য মেশিনারিজ আমদানিতে শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধা চান উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি তারা ২০৩০ সাল পর্যন্ত থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, পোলট্রি শিল্পে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নীতি সহায়তা না পেলে বিনিয়োগ হুমকিতে পড়বে।

বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, পোলট্রি খাত সংকটকাল পার করছে। ডিম, দুধ, মাছ ও মাংসের উৎপাদন সচল রাখতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা দরকার। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন জাতীয় বাজেটে পোলট্রি, মৎস্য ও পশুখাদ্য তৈরিতে ব্যবহূত সব ধরনের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের আগাম কর, অগ্রিম আয়কর, উৎসে কর, মূসক ও শুল্ক্ক প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। তিনি জানান, আমদানিকৃত হাঁস-মুরগির খামারের যন্ত্রাংশ, অগ্রিম আয়করমুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ বাজেটে এটি প্রত্যাহার করা হয়। ফলে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, দুই বছর ধরে দেশের ফিডশিল্প খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ এ খাতের ৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর। প্রধান কাঁচামাল সয়াবিন মিল ও ভুট্টার দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ডলারের দাম বাড়ায় পশুখাদ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে কর সহায়তা না পেলে সামনে বিশ্বমন্দা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে দেশে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, দেশ থেকে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের পাশাপাশি করহার কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমরা ইতোমধ্যে রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, যারা প্রাণিখাদ্য উৎপাদন করতে চান, তাদের কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকার দিতে চায়। কিছু কৌশলগত সমস্যার কারণে প্রাণিখাদ্য ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বাড়ছে। কিছু মজুতদার ও মুনাফালোভী খারাপ লোক আছে, তারা নিজেরা, আটকে রেখে বাইরে ছাড়ছেন কম। প্রাণিখাদ্য তৈরিতে বাইরে থেকে যে উপাদান আনতে হয় তা অতিরিক্ত এনেও অনেকে গুদামজাত করে রেখে কৃত্রিম সংকট দেখান। আমরা এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।