চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাটও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি পণ্য রপ্তানি বাড়াতে গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে অনেক বিনিয়োগ করছে। এ বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। চীন বাংলাদেশের কারখানায় কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে অন্য দেশে রপ্তানি কতে পারে। এতে বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই 

বাংলাদেশের পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইসিটি পণ্য রপ্তানি বাড়াতে হবে। এ সকল সেক্টরে রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে দেশের রপ্তানি আয় যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি চীনের সাথে বাণিজ্য ব্যবধান কমে আসবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে হোটেলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইনট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (রেপিড) এবং বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি আয়োজিত ‘মেকিং দ্য মোস্ট অফ মার্কেট এক্সেস ইন চায়না: হোয়াট নিডস টু বি ডান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। 

সেমিনারে বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

টিপু মুনশি বলেন, ‘চায়নার সাথে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে রপ্তানি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। চীন পণ্যের একটি বিশাল বাজার। চীনের বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে, আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নসহ যে সকল দেশে তৈরী পোশাক রপ্তানি করছে, চীন তার চেয়েও কয়েক গুণ বড় বাজার।’ 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচালসহ বিভিন্ন পণ্য চীন থেকে আমদানি করতে হয় কিন্তু আমরা সে পরিমান পণ্য চীনে রপ্তানি করতে পারি না। সে কারনেই চীনের সাথে আমাদের বাণিজ্য ব্যবধান অনেক বেশি। আমাদের শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। অন্যান্য রপ্তানি পণ্য উৎপাদন করে চীনে তা রপ্তানি করেই বাণিজ্য ব্যাধান কমাতে হবে।’ 

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করেছে ৬৮০ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে চীন থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিশাল বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।  চায়না আমরা প্রায় ৯৮ ভাগ পণ্য রপ্তানির উপর ডিউটি ফ্রি সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৬ সাল থেকে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করছে। বাংলাদেশ আশা করছে চীন আরও তিন বছর বাড়িয়ে আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত এ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখবে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা পেতে বিভিন্ন দেশেল সাথে এফটিএ বা পিটিএ এর মতো বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে সুবিধা গ্রহণ করবে।’ 

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। 

টিপু মুনশি বলেন, সবদিক বিবেচনায় নিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে।

বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-বিসিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট গাজী গোলাম মুরতজার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল আল মামুন মৃধা ।