আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালাগ (সিপিডি)। 

শুক্রবার সকালে সিপিডির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে প্রস্তাবিত বাজেটের নানা বিষয়।

প্রস্তাবিত বাজেটের সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট মূলস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ না থাকা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কম বরাদ্দ ও রাজস্ব নীতি সংস্কারের পদক্ষেপ না থাকার সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।

সিপিডি মনে করে, বাস্তবতা বিবেচনায় বাজেটে আরও সৃজনশীলতা দরকার ছিল। দরকার ছিল প্রাধিকার ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের। 

রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির ১২০ পাতার পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।  এসময় সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তেওফিকুল ইসলাম খান, রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ শাদাত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। 

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ৩২ নিত্যপণ্যের আমদানিতে শুল্কারোপ রেখে কীভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব— সে প্রশ্ন রাখেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ সরকারি হিসাবেই বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আমদানি নির্ভর অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি কমে আসার ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে কোনো লক্ষণ নেই বরং মন্দাভাবের দিক যাচ্ছে বিশ্বের অনেক দেশ। 

পাচার করা টাকা ফেরত আনার সুযোগের সমালোচনা করে সিপিডি বলেছে, এ পদক্ষেপ ন্যয্যতা এবং নৈতিকতার পরিপন্থি। এতে টাকা দেশে আসবে না। বৈধ পথে নেওয়া টাকা ফেরত আনার নজির অতীতে দেখা যায়নি। অবৈধ পথে নেওয়া টাকা কেন আনা হবে? এতে বরং পাচার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, এতে সৎ কর দাতারা নিরুৎসাহিত হবেন।