আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট, বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যে করের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হতাশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংসদ সদস্যরা। তাঁদের মতে, বিভিন্ন পক্ষ থেকে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের যে প্রস্তাবনা এসেছিল, তা এই বাজেটে একেবারেই প্রতিফলিত হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ফজলে হোসেন বাদশা, শিরীন আখতার, উম্মে ফাতেমা নাজমা, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ডা. সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, আফতাব উদ্দিন সরকার, মো. হারুনুর রশীদ ও মো. সাইফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক্ক হার আগের মতোই রেখে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম অতি সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপ করা হয়নি। এতে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের সম্ভাব্য সুফল থেকে দেশ বঞ্চিত হবে।
উন্নয়ন সমন্বয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রেক্ষাপট পত্রে দেখানো হয় যে, বাজেটে সিগারেটের ওপর যে কর ধার্য করা হয়েছে, তাতে সিগারেটের বিক্রি না কমে উল্টো ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের সিগারেটের ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট ইতোমধ্যে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কর প্রস্তাব অপরিবর্তিত থাকলে সিগারেট কোম্পানির বিক্রি বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও বাড়বে।
সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, অন্তত ১০০ জন সংসদ সদস্য বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই অর্থমন্ত্রীর কাছে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপের প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এর পরও এই প্রস্তাবনাগুলো বাজেটে প্রতিফলিত না হওয়াকে তিনি 'লজ্জাজনক' মনে করেন।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা আশা প্রকাশ করেন, তামাকবিরোধী সংসদ সদস্যসহ অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিগগিরই দেশে তামাক পণ্যে কার্যকর করারোপ সম্ভব হবে।