মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে অর্থায়ন করবে না বলে জানিয়েছে জাপান। 

বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হিকারিকো ওয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। 

গত বছর জুনে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন করে অর্থায়ন না করার ঘোষণা দেয় জাপান সরকার। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির অর্থায়ন বাতিল করেছে দেশটি।

হিকারিকো ওয়ান বলেন, মাতারবাড়ি আল্ট্রা ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য নির্ধারিত ওডিএ ঋণ বাতিল করা হয়েছে। মূলত এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা ছিল। তবে আমরা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মাতারবাড়ি এলাকার উন্নয়নেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।

গত বছর জুন মাসে ইংল্যান্ডের কার্নওয়ালে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাপান সরকার ঘোষণা দেয়, বিদেশি যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি সেগুলোর অর্থায়ন বাতিল করা হবে। তবে যেসব প্রকল্প এরই মধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সেগুলোর কোনোটির অর্থায়ন বাতিল হলে তা ওই ঘোষণার আওতায় পড়বে না।

এর আগে গত ২০ মার্চ মহেশখালীর মাতারবাড়িতে নির্মাণাধীণ এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি আরেকটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র করার যে আলোচনা রয়েছে, তাতে থাকবে বলে ঘোষণা দেয় প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার সুমিতোমো করপোরেশন।

জাপানের অন্যতম বৃহৎ এই কোম্পানি ২০৫০ সালের মধ্যে ‘কার্বন নিউট্রালিটি’ অর্জনে ধাপে ধাপে কয়লানির্ভর প্রকল্প থেকে সরে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই মাতারবাড়ির সম্ভাব্য দ্বিতীয় প্রকল্পে তারা না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) জানিয়েছে।

তবে মাতারবাড়ি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দ্বিতীয় প্রকল্পের কাজের কিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি।