ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট সময়োপযোগী, বাস্তবায়নযোগ্য এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী। এ বাজেট উন্নয়ন ও জনবান্ধব বলেই অন্য সরকারের বাজেটের মতো এর গঠনমূলক তেমন সমালোচনা নেই। যে সমালোচনা হচ্ছে তা শুধুমাত্র সমালোচনার জন্যই সমালোচনা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী।

এর আগে ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। এছাড়া, গত ১৩ জুন সংসদে চলতি অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট পাস করা হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাজেটকে সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে এ সময় আরও বলেন, বর্তমানে যে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে, সেটি বাংলাদেশে সৃষ্ট নয়। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সারাবিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জ্বালানিসহ সব পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও ডবল ডিজিটে চলে গিয়েছে মূল্যস্ফীতি। কিন্তু এখনও সেই তুলনায় মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির বিবেচনায় আমরা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছি।

দেশের নেতৃত্ব নিরাপদ হাতে আছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চোধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশের নেতৃত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন দেশ নিরাপদ থাকবে। যদি তার হাতে দেশ নিরাপদ না থাকে, তাহলে আর কারও পক্ষে এ দেশ নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে বলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা যে বক্তব্য দেন তার জবাবে ভূমীমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছেন যারা দেশের ভালো দেখতে পারেন না, দেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে সেই স্বপ্ন দেখেন। বাস্তবে তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই, তারা দেশের ভালো চান না। বস্তুত, শ্রীলংকার পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নয়। শ্রীলংকার অর্থনীতির একটা বড় অংশ পর্যটন শিল্পের আয়ের উপর নির্ভরশীল। করোনা মহামারি এবং সন্ত্রাসী বোমা হামলার কারণে দেশটির পর্যটন শিল্পে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ায় আয় প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে আবার দেশটির কৃষি উৎপাদনও অনেক কমে যায়। সেইসাথে নানাকিছু যোগ হয়ে শ্রীলংকার আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে এই দেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময়েও অর্থনীতির চাকা সচল রেখে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ তার রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহেও তেমন প্রভাব পড়েনি। এ প্রবাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও এখন পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। ফলে শ্রীলংকার মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পড়ার শঙ্কা নেই।