পারটেক্স গ্রুপের মালিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত বুধবার এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল বা সিআইসি থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি দিয়ে পারটেপ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাশেমের পাঁচ ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীদের ব্যাংক হিসাবের গত আট বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছে।


তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- আজিজ আল কায়সার ও তাঁর স্ত্রী তাবাসসুম কায়সার, আজিজ আল মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস, রুবেল আজিজ ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা শাইরীন আজিজ, শওকত আজিজ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী ফারহানাজ চৌধুরী ও আজিজ আল মাহমুদ এবং তাঁর স্ত্রী সাবেরা এইচ মাহমুদ।

চিঠিতে এসব ব্যক্তির ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ পর্যন্ত সময়ের সব ধরনের (সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, এফসি অ্যাকাউন্ট, মেয়াদি হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, লকার, ভল্ট, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যে কোনো ধরনের সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট ইত্যাদি) তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এসব হিসাব চালু, বন্ধ বা সুপ্ত যে অবস্থায়ই থাকুক, তার তথ্য দিতে হবে। এসব হিসাবে কী পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে, কত টাকা আয়কর কাটা হয়েছে এবং স্থিতি জানাতে বলা হয়েছে চিঠিতে। এ ছাড়া এসব তথ্য রাজস্বের স্বার্থে চাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।


২০২০ সালের ডিসেম্বরে মারা যান এম এ হাশেম। তাঁর প্রতিষ্ঠিত পারটেপ গ্রুপ ছাড়াও পারটেপ স্টার গ্রুপ, অ্যাম্বার গ্রুপসহ আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁদের মালিকানায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার রয়েছে। সন্তানেরা একেকজন একেক প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করছেন। আজিজ আল কায়সার বর্তমানে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পারটেপ স্টার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁর স্ত্রী তাবাসসুম কায়সারও সিটি ব্যাংকের পরিচালক। এ ছাড়া শাইরীন আজিজ ও সাবেরা এইচ মাহমুদ রয়েছেন সিটি ব্যাংকের পর্ষদে।


এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আয়কর-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স পরিপালনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়ে থাকে। পারটেপ গ্রুপের মালিকদের বেলায়ও একই কারণে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এটি নিয়মিত কাজের অংশ।


একই দিনে অপর এক চিঠিতে গুলশান ক্লাবের প্রেসিডেন্ট রফিকুল আলম হেলাল ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলাম রামস ফ্যাশন অ্যান্ড এমব্রয়ডারির সিইও।