তিন-চার দিনের ব্যবধানে হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠেছে চিড়া, গুড় ও মুড়ির বাজার। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিড়ার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা, গুড় ১০ থেকে ২০ টাকা এবং মুড়ির দাম ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চিড়ার সংকটও দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা পর্যায়ে গত তিন দিন আগে মানভেদে প্রতি কেজি চিড়া বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। 

দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। আখের গুড় বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। যা তিন-চার দিন আগেও কেনা যেত ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া মুড়ির দাম সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে এত বেশি চিড়া বিক্রি হয়েছে যা গত কয়েক মাসেও হয়নি। ক্রেতারা রীতিমতো লাইন ধরেছে চিড়া আর গুড়ের জন্য। পাইকারি পর্যায়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই ৫০ কেজির পাঁচ-দশ বস্তা করে কিনছেন। বন্যাকবলিত এলাকার জন্য এসব চিড়া কিনছেন তারা। 

মূলত মিলগেটে দাম বাড়ার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।

তবে ক্রেতারা বলছেন, সিলেট ও উত্তরবঙ্গে বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। অনেকেই সেসব অঞ্চলে ত্রাণ দেওয়ার জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড় ও শুকনো বিস্কুট কিনছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারে চিড়া ও গুড় কিনতে এসেছেন রাজধানীর বেগুনবাড়ি এলাকার রিপন মিয়া। তিনি সমকালকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই সব জিনিসের দাম বাড়তি। এখন ত্রাণের জিনিসের দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সবসময় সংকট সৃষ্টির সুযোগ খোঁজে। এর জন্য সরকারের সংশ্নিষ্টরা দায় এড়াতে পারেন না। 

রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারের মিম স্টোরের একজন বিক্রয় কর্মী সমকালকে জানান, পাইকারি বাজারে এখন চিড়ার টান পড়েছে। অর্ডার দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না। সিলেট বিভাগসহ কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছে। সেসব জেলায় ত্রাণ দেওয়ার জন্য অনেকেই ২০০, ৩০০ কেজি করে চিড়া কিনছেন। এ কারণে পাইকারি পর্যায়ে কেজিতে ১০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। 

তিনি বলেন, চিড়ার সঙ্গে পাইকারি বাজারে গুড়ের দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। মুড়ির কেজিতে বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা।

কারওয়ান বাজারে খুচরা পর্যায়ে চিড়া, মুড়ি ও গুড় বিক্রি করেন মামুন হোসেন। 

তিনি বলেন, গত তিন দিন আগে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চিড়ার দাম ছিল দুই হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন কিনতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। সেই হিসাবে পাইকারিতে দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ থেকে ১২ টাকা।

মামুন হোসেন বলেন, বন্যার কারণে অনেকেই চিড়া-মুড়ি কিনে নিচ্ছেন ত্রাণ দেওয়ার জন্য। মিলাররা সেই সুযোগ নিচ্ছেন। তাঁরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজ (গতকাল) কয়েকজন মিলারের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চিড়ার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদা মতো দিতে পারবেন না।

আব্দুর রহমান নামের একজন গুড় ব্যবসায়ী বলেন, তাঁর কাছে থাকা বেশিরভাগ আখের গুড় গত দুই দিনে বিক্রি হয়ে গেছে। চিড়ার সঙ্গে ক্রেতারা ৫০ কেজি, ১০০ কেজি করে গুড় নিচ্ছেন। পাইকারি বাজারে গুড়ের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকার মতো বেড়েছে। সে জন্য খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।