পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে শনিবার নতুন স্মারক নোট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের এ নোট কেনা যাবে। শিগগির বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য সব অফিস থেকে পাওয়া যাবে এ নোট। এ ছাড়া ঢাকার মিরপুরে টাকা জাদুঘর থেকে কেনা যাবে। সর্বসাধারণের কাছে বিক্রির জন্য ১০ লাখ পিস স্মারক নোট ছাপা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্মারক নোটের গায়ের মূল্যমান ১০০ টাকা হলেও প্রতিটি নোট কিনতে হবে ১৫০ টাকায়। ফোল্ডারসহ দাম পড়বে ২০০ টাকা। এর আগে যেসব স্মারক নোট ছাড়া হয় প্রতিটির দাম গায়ে যা মূল্যমান তাই রাখা হয়। এবারই প্রথম মূল্যমানের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত কাগজের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন বিবেচনায় দাম বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে মতিঝিল অফিসের অবস্থান। আজ থেকে এ অফিসে কিছু স্মারক নোট বিক্রি হবে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য সব অফিসে পাওয়া যাবে এ নোট। বর্তমানে মতিঝিল অফিসের বাইরে ঢাকার সদরঘাট, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহ অফিস রয়েছে।

বিভিন্ন দিবস ও বিশেষ অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক মুদ্রা প্রচলনের রীতি রয়েছে। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী সেতু চালুর সময় দুই ধরনের স্মারক মুদ্রা ছাড়া হয়। এর একটি ছিল শতভাগ নিকেলের তৈরি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের স্মারক কয়েন। অপরটি রৌপ্যের তৈরি ২০ টাকা অভিহিত মূল্যের কয়েন। স্বর্ণ, নিকেল, রৌপ্য ও কাগুজে এসব মুদ্রা কিনে থাকেন অনেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত পদ্মা সেতুর স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি রয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে পদ্মা সেতুর ছবি। নোটের ওপরের দিকের সামান্য ডানে নোটের শিরোনাম 'জাতির গৌরবের প্রতীক পদ্মা সেতু' লেখা রয়েছে। ডান কোনায় স্মারক নোটের মূল্যমান ইংরেজিতে '১০০', নিচে ডান কোণে মূল্যমান বাংলায় '$১০০' এবং উপরিভাগের মাঝখানে 'একশত টাকা' লেখা। নোটের পেছন দিকে পদ্মা সেতুর আরেকটি ছবি দেওয়া হয়েছে। উপরিভাগের ডানদিকে ইংরেজিতে পদ্মা সেতু এবং মূল্যমান লেখা। বাম কোণে ও নিচের ডান কোণে মূল্যমান, নিচের মাঝখানে 'বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম' এবং বাম পাশে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডান পাশে একশত টাকা লেখা আছে।