জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলার বৈধতা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের তিনটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তারেক-জোবাইদাকে পলাতকও ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। 

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান পলাতক থাকায় তাদের রিট গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী এ মামলা পরিচালনা করতে পারবে না। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ মামলার যাবতীয় নথিপত্র ঢাকার বিচারিক আদালতে পাঠাতে বলেছেন। পাশাপাশি মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

এর ফলে গত ১৪ বছর ধরে স্থগিত থাকা এ মামলার বিচার চলতে আর কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এর আগে গত ১৯ জুন তারেক ও জোবাইদার তিনটি আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য রেখেছিলেন আদালত। আসামিরা পলাতক কি না দুদকের এমন আবেদনের বিষয়ে ওই দিন শুনানি হয়।

আদালতে তারেক-জোবাইদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনউদ্দিন মানিক।

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, তারেক রহমানের দুটি রিট এবং জোবাইদা রহমানের একটি রিটের রুল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার ওপর স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

দুদকের এ আইনজীবী বলেন, তারেক রহমান যেহেতু একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলাসহ তিনটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ বিষয়টি আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি, এই তিনটি মামলার ওপর ভিত্তি করেই এবং তার বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে আইনের দৃষ্টিতে তারেক রহমান পলাতক বলে রায় দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ২৯ মে এ মামলায় রুল শুনানিতে 'দণ্ডিত ও পলাতক' থাকা অবস্থায় তারেক রহমান এ মামলায় আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন কি না-আদালতে এমন প্রশ্ন রাখেন দুদক আইনজীবী।

গত ১ জুন ডা. জোবাইদা রহমানকে পলাতক ঘোষণা করে আপিল বিভাগ থেকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ৫ জুন এক পলাতক আসামির পক্ষে হাইকোর্টে জামিন চাইতে গেলে পলাতক আসামিদের পক্ষে কোনো আবেদন না করতে আইনজীবীদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করে দুদক। সেখানে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। 

পরে একই বছর তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক। আসামিরা মামলা বাতিলের আবেদন করলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।