শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক লেনদেন কমছে। রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৫৯৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গত ১৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। স্বাভাবিক লেনদেন কমলেও ব্লকে শেয়ার কেনাবেচার হার বেড়েছে। চলতি মাসে ব্লকে শেয়ার কেনাবেচা মোট লেনদেনের পৌনে ১১ শতাংশ ছুঁয়েছে, যা স্মরণকালের সর্বোচ্চ। রোববার পর্যন্ত চলতি জুনে ডিএসইতে এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। একই সময়ে এ বাজারের মোট শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। গত বছরের জুনে ৪৩ হাজার ৫০৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ব্লকে লেনদেন ছিল এক হাজার ৯০০ কোটি টাকার, যা ওই মাসের মোট লেনদেনের ৪ শতাংশ।

গত মে মাসেও ব্লকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ওই মাসে ১৪ হাজার ৪৬৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ব্লকে ৮৮৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রতি বছর জুন এলেই ব্লক মার্কেটে শেয়ার লেনদেন বেড়ে যায়। এ বছর মোট লেনদেনের তুলনায় ব্লকে লেনদেনের হার বেশি। সার্বিক নেতিবাচক ধারায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিক থেকে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কমে গেলেও ব্লকে যাঁরা কেনাবেচা করেন, তাঁদের লেনদেন কমেনি। তাঁরা বলেন, জুনে হিসাব বছর শেষ হয় এমন মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী কিছু সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এক মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার বিক্রি করে অন্য মিউচুয়াল ফান্ড থেকে কেনে। কাগুজে হিসাবে ফান্ডের নিট মুনাফা বাড়াতে এভাবে প্রফিট রিয়েলাইজ করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এটা নৈতিকতাবিরুদ্ধ। পাবলিক মার্কেটে ওই শেয়ার বিক্রি করে ভালো দাম পাবে না বা যথেষ্ট ক্রেতা নাও মিলতে পারে- এমন শঙ্কা থেকে নিজেই ক্রেতা ও বিক্রেতা হয়ে শেয়ার কেনাবেচা করছে তারা।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির হিসাব বছর শেষ হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানটিও নিট মুনাফা বাড়াতে একই কাজ করেছে। তবে শেয়ার লেনদেন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব যাতে তৈরি না হয়, তা ঠেকাতেও কিছু প্রতিষ্ঠান নিজের এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে শেয়ার কেনাবেচা করে থাকে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, হিসাব বছরের শেষে এসে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রফিট রিয়েলাইজ করতে এভাবে শেয়ার কেনাবেচা করছে। কমিশন এ ধরনের লেনদেনের নোট রাখে। এমন লেনদেনে আইনের কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে কিনা, তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

এ ধরনের লেনদেন বাজারে ভালো কিছু বয়ে আনছে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আল-আমিন। তিনি বলেন, শুধু প্রফিট রিয়েলাইজ নয়, জুয়াড়ি চক্র কখনও কখনও শেয়ার নিজেদের কন্ট্রোলে রেখে সাময়িকভাবে ওই শেয়ারের বিপরীতে লগ্নি ফিরে পেতেও এভাবে ব্লকে লেনদেন করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবটা জেনেও নিশ্চুপ।

গতকাল ডিএসইতে ৯৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩০টির দর কমেছে; অপরিবর্তিত ৫৭টির দর। প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩০১ পয়েন্টে নেমেছে। শেয়ার ও সূচকের পাশাপাশি লেনদেন ৮৯ কোটি টাকা কমে ৫৯৪ কোটি টাকায় নেমেছে।