পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে দক্ষিণে টেকনাফে এসে থেমেছে। দুই প্রান্তের মাঝখানের দৈর্ঘ্য ৮০ কিলোমিটার পথ। গোটা পথের দুই ধারের প্রকৃতি দুই ধরনের। একদিকে সুবিশাল সুনীল জলরাশির ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ। অন্যদিকে, সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। উদার এ প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটক টানতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়ন মূল লক্ষ্য। তবে কক্সবাজার থেকে সড়কের প্রথম ৩২ কিলোমিটার অপ্রশস্ত পথ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রশস্ত হওয়ায় অসহনীয় যানজট নিত্যঘটনা। পর্যটকদের নিরাপত্তাহীনতাও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরু এ পথটি। এ বাস্তবতায় নির্বিঘ্ন পর্যটন আকর্ষণে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ৩১ কিলোমিটার দুই লেনে উন্নীত করা হবে। রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটিও দুই লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। ৫ দশমিক ৫ মিটারকে ১০ দশমিক ২৫ মিটারে প্রশস্ত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা তদারকিতে গোটা সড়কে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো হচ্ছে। ভাঙন রোধে জিও টেক্সটাইলসহ সিসি ব্লক স্থাপন করা হবে। এ রকম অন্তত একডজন নতুন কার্যক্রম নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। অনুমোদন পেলে ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা আছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প নামে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের সংশ্নিষ্ট ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সরকারের সচিব মামুন-আল-রশীদ সমকালকে বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে তিনি প্রকল্পটির বিভিন্ন সমস্যা দেখেছেন। রেজুখালী ব্রিজটি সরু হওয়ায় যানজট নিত্যঘটনা। এক দিকের গাড়ি পার হওয়ার পর অন্যদিকের গাড়ি ছাড়তে হয়। এতে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। সড়কের অন্যান্য অংশও সরু হওয়ায় একদিকে যানজট, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে যাচ্ছে। অথচ পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের সুবিধা আদায় এবং পর্যটক আকর্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে প্রকল্পটি।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্পটি তিন পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়। প্রথম পর্যায়ে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় পর্যায়ে ইনানী থেকে শিলখালী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এবং শিলখালী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার পথের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালে থানা সংযোগ সড়ক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে  কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, সাড়ে ৭ লাখ ঘনমিটার মাটি ভরাট, বাঁক সরলীকরণ, ৬৩ হাজার ৭২০ বর্গমিটার জিও টেক্সটাইলসহ সিসি ব্লক স্থাপন, ৬০৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ৫৪ হাজার ট্রেটাপড (কংক্রিটের ব্লক) নির্মাণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর ইত্যাদি।