মামলা তদন্তে আসামির কাছ থেকে পুলিশের সংস্থাগুলো (ডিবি, পিবিআই, এসবি) বল প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়। এ ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধ করার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে পুলিশকে বাদ দিয়ে আলাদা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত 'হেফাজতে নির্যাতন :বাংলাদেশের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিবর্তন' শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ মামলার তদন্ত কতদিন করবে; আইনে তার কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর তদন্ত চলে।
আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ব্লাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জেডআই খান পান্না বলেন, বিচার বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বাধীন হতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের সেফহোমে নিয়ে চিকিৎসক ও আইনজীবীর সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাহলে অন্যান্য মামলায় রিমান্ডের ক্ষেত্রে কেন এটি করা হবে না?
দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও পুরোনো আইন বাতিল করা যাচ্ছে না। একটি স্বাধীন দেশে মানুষকে রাস্তায় পেটানো বন্ধ করতে হবে। বল প্রয়োগ করে আসামির কাছ থেকে অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায় করা যাবে না। বিকল্প পন্থায় স্বীকারোক্তি আদায় করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মামলা তদন্তে পুলিশকে বাদ দিয়ে আলাদা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা না হলে ক্ষমতার দাপট কমবে না। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সংস্কার করা দরকার বলেও মনে করেন আবু সাঈদ খান।
মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন বলেন, সংবিধানে নাগরিকদের সুরক্ষার কথা বলা থাকলেও সঠিকভাবে তা প্রয়োগ হচ্ছে না। সংবিধান পুস্তিকা আকারে থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ব্রিটিশ এবং পাকিস্তানের মেরামত করা পুরোনো আইন দিয়ে বিচার ব্যবস্থার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, এসএম রেজাউল করিম, কাজী জাহেদ ইকবাল, জীবনানন্দ জয়ন্ত, তাজুল ইসলাম, লিমন হোসেন প্রমুখ।