দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান সরকার। প্রকল্প দুটি হচ্ছে, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এমআরটি লাইন-৫) দক্ষিণ শাখা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প।

মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত আইটিও নাওকি। জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার ঢাকা অফিসের প্রধান ইউহু হায়াকায়াসহ দু'পক্ষের সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ আয়োজন করা হয়।

ঋণের অর্থে নির্মাণ কার্যক্রমে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ এবং পরামর্শক সেবায় শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া প্রারম্ভিক সুদ হিসেবে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ধার্য রয়েছে। ১০ বছরের রেয়াতকালসহ আগামী ৩০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করা যাবে।

ইআরডির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার যানজট কিছুটা লাঘব হবে। বায়ুদূষণও কিছুটা কমবে। ২০ কিলোমিটারের এ প্রকল্পটি হেমায়েতপুর, আমিন বাজার হয়ে ভাটারায় গিয়ে শেষ হবে। শুরুতে প্রকল্পের প্রকৌশল সেবায় ৭৩৬ কোটি ইয়েন এবং ৫ হাজার ৫৭০ কোটি ইয়েন ঋণ সহায়তা দিয়েছে জাইকা।

সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীনে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে মহেশখালী, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ পৌরসভা এবং কক্সবাজার সদর উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৪৬ কোটি ইয়েন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ২০২৮ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।

একক দেশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। স্বাধীনতার পর থেকেই আর্থসমাজিক বিভিন্ন খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি। গত মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৭ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ছাড় করেছে জাপান। এ সময় পর্যন্ত প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ২৭ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার।