ভোজ্যতেলে দেশে বিদ্যমান ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রোববার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এনবিআর বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে এ সুবিধার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এর ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় হবে এবং ভোক্তা ন্যায্য দামে কিনে খেতে পারবেন বলে আশা করছে এনবিআর।

বর্তমানে ভোজ্যতেলে শুধু আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ আছে। বাকি দুই স্তরে অর্থাৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে কোনো ভ্যাট নেই। এই দুই স্তরে মোট ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে যা এ বছরের মার্চ মাসে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সুবিধা দেওয়া হয়। এখন নতুন করে বর্তমান সুবিধার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলো।

এনবিআর আশা করছে, এর ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় হবে এবং ভোক্তা ন্যায্য দামে কিনে খেতে পারবেন।

তিন দফায় ৫৫ টাকা বাড়ানোর পর গত ২৬ জুন সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ছয় টাকা পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা। সবশেষ ৯ জুন সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার দিন প্রথমবারের মতো বোতলজাত সয়াবিনের দাম সাত টাকা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ জুন পর্যন্ত তিন দফায় লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে গত কয়েক দিন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় দাম কমানোর বিষয়টি আলোচনায় ছিল।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ২ জুন বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমার ‘সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’ বলে জানান। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম এখনও অস্বাভাবিক।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সয়াবিনসহ ভোজ্যতেলের দর বিশ্ববাজারে চড়তে থাকায় রমজানের ঈদের পর ৫ মে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪০ টাকা বাড়ানো হয়।

এর আগে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪৩ টাকা এবং পাম তেল লিটারে ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়।