সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫২ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে দেশের রপ্তানি আয়। দেশের ইতিহাসে এ পরিমাণ রপ্তানি এর আগে কোনো বছর হয়নি। এর আগে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড ছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছর শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই এসেছে ৪৩ বিলিয়ন ডলার।

গত কয়েক অর্থবছর ধরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সমাপ্ত অর্থবছরের মে মাসে দুই মাস হাতে থাকতেই তা অর্জিত হয়েছে। অর্থবছর শেষে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হয়েছে। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাধীনতার ৫১ বছরে ৫২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রপ্তানিকে এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান সমকালকে বলেন, এ অর্জনের পেছনে সরকার, উদ্যোক্তা, শ্রমিকসহ সব পক্ষের অবদান রয়েছে। দেশের এবং পোশাকের ব্র্যান্ডিংয়ে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ-পদক্ষেপে বিদেশি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতারা বাংলাদেশকে শতভাগ আস্থায় নিয়েছেন। পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের গতি থাকার ফলে পশ্চাৎসংযোগ শিল্পেরও চাহিদা বেড়েছে। স্পিনিং, ফিনিশিং, ডায়িং- সব পর্যায়ে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে। এতে সার্বিক পোশাক খাতের সক্ষমতায় নতুন শক্তি যোগ হয়েছে।

ফারুক হাসান বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পোশাকের চাহিদা কমে আসছে। তবে তারা খুব শঙ্কিত নন। মূল্য সংযোজন, নিজস্ব ডিজাইন ও গবেষণা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন তারা। এ লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে।

২০২১-২২ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে পোশাকের রপ্তানি বেশি হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে ২১ শতাংশ। ওভেনের তুলনায় নিট ক্যাটাগরির পোশাকের রপ্তানি কিছুটা বেশি।

গত অর্থবছরের শুরুর মাসেই করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করে রপ্তানি খাত। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসেই রপ্তানি বাড়তে থাকে। অক্টোবরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয় ৬০ শতাংশ। পরবর্তীতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দরবৃদ্ধি ও মূল্যস্ম্ফীতির কারণে চাপে পড়ে সারাবিশ্ব। এতে পশ্চিমা বিশ্বে ভোগ চাহিদা কমে আসে পোশাকের। রপ্তানিতে সেই ছাপ ছিল স্পষ্ট। এ কারণে প্রথম দিকের তুলনায় অর্থবছরের শেষ দিকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে আসে। জুনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশের কিছু বেশি হয়েছে।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৮৭৬ কোটি ডলার রপ্তানি হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৪ বিলিয়ন ডলারের কিছু কম বা তিন হাজার ৩৬৭ কোটি ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪০.৫৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বা চার হাজার ৫৩৫ কোটি ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬.৬৭ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের দিক থেকে পোশাকের পরে রয়েছে হোমটেক্সটাইল। ১৬২ কোটি ডলারের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে চামড়া ও চামড়া পণ্য। রপ্তানি হয়েছে ১৪৬ কোটি ডলারের। এর পর রয়েছে কৃষি পণ্য। রপ্তানি হয়েছে ১১৬ কোটি ডলারের।