স্মার্ট প্রিপেইড মিটারসহ বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি (বেসকো)। খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কের মোহাম্মদনগর এলাকার মৃধা কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয় কোম্পানির কারখানা। ২০২০ সালে দেশে প্রথমবারের মতো স্মার্ট প্রিপেইড মিটার তৈরি করে বাজারজাত করে তারা। কোম্পানিটি প্রথম দেড় বছরেই মুনাফা করে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। কিন্তু পরের বছরই বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানির কার্যক্রম। গত প্রায় দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে কোম্পানির কারখানা।

দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক ৪ কোটি ২৯ লাখের মতো। গ্রাহকদের স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে বিতরণ সংস্থাগুলো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি টাকা রিচার্জ করার সুবিধা রয়েছে এই মিটারে। ইতোপূর্বে ঠিকাদারের মাধ্যমে বিদেশ থেকে মিটার আমদানি করা হতো।

২০১৮ সালে দেশেই মিটার তৈরির নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে খুলনায় মিটার তৈরির কারখানা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয় কোম্পানি। যার ৫১ শতাংশ মালিকানা ওজোপাডিকোর এবং ৪৯ শতাংশ চায়না হেক্সিংয়ের। শুরুতে কোম্পানির নাম ছিল বাংলাদেশ স্মার্ট প্রিপেইড কোম্পানি। পরে নামকরণ হয় বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি।

২০১৯ সালে খুলনায় কারখানা স্থাপনের পর উৎপাদনের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০২০ সালের মে মাসে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। ওই বছর মোট এক লাখ ৯০ হাজার মিটার তৈরি করে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ছিল ওজোপাডিকোর জন্য এক লাখ ৭০ হাজার এবং ডিপিডিসির জন্য ২০ হাজার মিটার।

সম্প্রতি রূপসা সেতু বাইপাস সড়কের কারখানা ঘুরে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। মাত্র একজন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া কেউ নেই সেখানে।

জানতে চাইলে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ওজোপাডিকোর এমডিই বেসকোর এমডি ছিলেন। সম্প্রতি পৃথক এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি কোম্পানিটি আবারও পুরোদমে চালুর চেষ্টা করছেন।’

বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফিজুল বারী বলেন, কোম্পানিকে পুনরায় উৎপাদনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার তৈরির অর্ডার পাওয়া গেছে। যন্ত্রণাংশ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কারখানা চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।