জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেছেন, সহজ কর পরিশোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে পদ্ধতিগত উন্নয়নে। পাশাপাশি করদাতার সংখ্যা বাড়াতে উপজেলা পর্যন্ত কর অফিস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইসের (ইএফডি) মাধ্যমে ভ্যাট পরিশোধকারীদের পুরস্কার দেওয়ার লটারি অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৮তম লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পর পর তিন বছর করপোরেট করহার কমানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, করহার কমলে রাজস্ব আহরণ কমতে পারে। কিন্তু তা ঠিক নয়। বরং করহার কমালে ও আদায় পদ্ধতি সহজ করলে রাজস্ব আদায় বাড়ে, যা প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য এনবিআর কর দেওয়া সহজ করতে কাজ করছে। আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও কাস্টমসে পদ্ধতিগত উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু পদ্ধতি উন্নয়ন নয়, নতুন করদাতা শনাক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। এনবিআর উপজেলা পর্যায়ে অফিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রসারণ প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত হলেই কার্যক্রম শুরু হবে।

পুরস্কার নিচ্ছেন না ইএফডির লটারি বিজয়ীরা: অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি লটারির মধ্যে মাত্র একজন প্রথম পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কার নিয়েছেন। আর কোনো প্রথম পুরস্কার বিজয়ী ভ্যাটদাতা যোগাযোগ করেননি। অন্যান্য পুরস্কার নেওয়ার সংখ্যাও হাতেগোনা। অথচ ১৭টি লটারিতে মোট এক হাজার ৭১৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। প্রত্যেক লটারিতে ১০১ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এর প্রথম পুরস্কার এক লাখ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। তৃতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা করে ৫টি। বাকি পুরস্কারগুলো ১০ হাজার টাকা করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ইএফডি নতুন পদ্ধতি। এর ব্যবহার উৎসাহিত করতে লটারির মাধ্যমে পুরস্কৃত করার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। কিন্তু বিজয়ীরা আসছেন না। কেন আগ্রহ নেই, তা বোধগম্য নয়। খুচরা বেচাকেনা পর্যায়ে ভ্যাট আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।