বকেয়া ভ্যাট আদায়ের জন্য তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন বা পেট্রোবাংলার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য বা ফ্রিজ করেছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ভ্যাট। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা থাকলে তা কেটে নিয়ে তাদের অ্যাকাউন্টে জমা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ জুন ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়ে পেট্রোবাংলার সব ধরনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন এ সংস্থাটি। চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে ৯৯৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে সরকারের।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান সমকালকে বলেন, তিনি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়ে কিছু জানেন না। এজন্য কোনো মতামত জানাতেও চাননি।

এলটিইউ ভ্যাটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেট্রোবাংলার কাছে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ অনেক টাকার রাজস্ব আটকে আছে। কিছু ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিসাব নিয়ে মতবিরোধ আছে। যেগুলো নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে নিরীক্ষা, শুনানি ইত্যাদি চলছে। কিন্তু এই ৯৯৪ কোটি টাকা পাওনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেও পেট্রোবাংলা পরিশোধ করছে না। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও সংস্থাটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। সবশেষে বাধ্য হয়ে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে সেখান থেকে টাকা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এলটিইউ, ভ্যাট।

তবে পেট্রোবাংলা বলছে, তাদের কাছে টাকা না থাকায় বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সর্বশেষ গত অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত পেট্রোবাংলার কাছে বকেয়া ভ্যাটের পরিমাণ ২২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা।