বুধবার কয়েকটি ব্যাংকের কাছে আরও নয় কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি একশ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার পর্যন্ত মোট বিক্রি করা হয়েছে ১০৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এভাবে ডলা বিক্রির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমে ৩৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে এখন ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করছে। সর্বশেষ গত সোমবার প্রতি ডলারে ২৫ পয়সা বাড়িয়ে এ রকম দর নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে গত এক বছরে প্রতি ডলারে বাড়ানো হয় নয় টাকা ৯০ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও নগদ ডলারের দর বেড়েছে আরও বেশি হারে। এসব ক্ষেত্রে এখন ১০০ টাকার বেশি দরে ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার খোলাবাজারে ১১২ টাকা পর্যন্ত দর উঠে। তবে বুধবার তা আবার ১০৭ টাকায় নেমেছে। বুধবার বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ১০৮ টাকা পর্যন্ত দরে ডলার কিনেছে ব্যাংক। এ রকম অবস্থায় আমদানি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিক্রি করে ৭৬২ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত থাকা ৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত আমদানিতে ব্যয় হয়েছে সাত হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। একই সময় পর্যন্ত রপ্তানি আয় হয়েছে চার হাজার ৪৫৮ কোটি ডলারের। এতে করে প্রথম ১১ মাসে রেকর্ড তিন হাজার ৮২ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রায় ১৬ শতাংশ কমে এক হাজার ৯১৯ কোটি ডলারে নেমেছে। যে কারণে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নেওয়া উদ্যোগে আমদানি ব্যয় কমলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।