করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় ভুগছে বিশ্ব। এর প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উদ্বেগজনকভাবে কমেছে পাকিস্তানেও। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এ ধরনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিজেদের অর্থনীতি স্থিতিশীল রেখেছে বাংলাদেশ। সোমবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস।

গণমাধ্যমটির কূটনৈতিক সম্পাদক দীপঞ্জন রায় চৌধুরীর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছরে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে বাংলাদেশ। বিস্তৃত উৎপাদন খাত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন- সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার মধ্যে অনুসরণীয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' বলেছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। তাঁর সেই নিন্দনীয় উক্তির কথা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে এসেছে। এর প্রমাণ হিসেবে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া পদ্মা সেতু। যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা এ সেতুর অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তারাই এখন বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এ সেতুর কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত অনেক শক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, 'আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মহামারির আগেও দেশের প্রবৃদ্ধির হার পাকিস্তানের চেয়ে অনেক উপরে ছিল। ২০১৮-১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে পাকিস্তানে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস এবং জাহাজ নির্মাণ থেকে গার্মেন্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের শিল্প ভিত্তি ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং দেশটির রপ্তানি বাড়ছে। দেশের অর্থনীতিকে সমান গতিতে রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এতে বলা হয়, রপ্তানি বাড়ানো এবং আমদানি কমানোর বিষয়ে সরকারের নেওয়া নীতি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে শুরু করেছে।

ভারতের গণমাধ্যমটি লিখেছে, যদিও অর্থনীতিতে কভিড-১৯ মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। তবে সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই স্তম্ভ- পোশাক খাত ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে আছে।