পুনঃতপশিল করা কোনো ঋণ ছয় মাস অনাদায়ী থাকলে তা সরাসরি 'ক্ষতিজনক' মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে। প্রকৃত আদায় ছাড়া পুনঃতপশিল করা ঋণের সুদ ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না। আর পুনঃতপশিলের সব ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এ ছাড়া পুনঃতপশিল করা কোনো ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যাপক ছাড় দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠন নীতিমালা জারি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আগের নির্দেশনায় এমন সংশোধন আনল বাংলাদেশ ব্যাংক। ৫০০ কোটি টাকার বড় অঙ্কের মেয়াদি ঋণ চার দফায় দীর্ঘমেয়াদে পুনঃতপশিলের সুযোগ দিয়ে গত ১৮ জুলাই সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি পর্যায়ে ডাউনপেমেন্টর হারও কমানো হয়।

পুনঃতপশিলের বিষয়টি পুরোপুরি ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুনঃতপশিল করা ঋণ হিসাবের বিপরীতে 'স্থগিত সুদ' হিসেবে রক্ষিত এবং পুনঃতপশিলের পর আরোপিত সুদ প্রকৃত আদায় ছাড়া ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকৃত ঋণ তৃতীয় ও চতুর্থবার পুনঃতপশিল করার ক্ষেত্রে প্রকৃত আদায় না করে সংরক্ষিত প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে নেওয়া যাবে না।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল ঋণ পুনঃতপশিলে সব শর্ত পরিপালন হয়েছে কিনা, তা যাচাই করবে। যাচাই শেষে তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। পুনঃতপশিল পরবর্তী সময়ে আসল এবং সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সমকিস্তিতে আদায় করতে হবে। ছয়টি মাসিক বা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে পুনঃতপশিল করা ঋণ সরাসরি ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকরণ করতে হবে।

আগের নির্দেশনায় সব ঋণ পুনঃতপশিলে পরিচালনা পর্ষদ বা নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের কথা বলা হয়েছিল। তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এ ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নূ্যনতম এক স্তর ওপরের পর্যায় থেকে অনুমোদিত হতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করতে হবে।