পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা হিসাব করার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা হিসাব করা হতো শেয়ারের বাজারমূল্যে। এখন থেকে ক্রয়মূল্যে এ হিসাব করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। আবার কোনো কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে কমবে। কারণ, কেউ শেয়ারবাজারে লোকসানে আছেন, আবার কেউ লাভে আছেন। যারা লোকসানে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যে হিসাব করা হলে বিনিয়োগের সুযোগ কমবে। উদহারণস্বরূপ- কোনো ব্যাংকের কেনা শেয়ারের গড়মূল্য যদি ১০০ টাকায় হয় এবং এখন যদি বাজারমূল্য ৫০ টাকা থাকে, তাহলে এতদিন ৫০ টাকার ভিত্তিতেই হিসাব হয়ে আসছিল। ফলে সেই ব্যাংকের জন্য বিনিয়োগের 'স্পেস' বেশি ছিল। অন্যদিকে যদি কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাজারমূল্য ১৫০ টাকা হয়, তাহলে তার জন্য বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। কারণ হিসাব হবে ১০০ টাকার ভিত্তিতে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক এককভাবে তার মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। অন্যদিকে সমন্বিত ভিত্তিতে (সাবসিডিয়ারিসহ) বিনিয়োগ করতে পারে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। বিনিয়োগের পরিমাণ হিসাব করা হতো শেয়ারের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দীর্ঘদিন ধরে ক্রয় মূল্যে হিসাবায়নের পক্ষে মতামত দিয়ে আসছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংক খাত ও অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব নিয়ে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে একটা সমস্যা ছিল। এর সমাধান করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়বে কী কমবে, তা নির্ভর করবে শেয়ারবাজার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান বাজারে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অনেক ব্যাংকের বিনিয়োগ এখন আইনি সীমার অনেক নিচে রয়েছে।
তিনি বলেন, শেয়ারের দাম কমে গেলে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে হিসাবায়ন ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের 'স্পেস' কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে দাম বেড়ে গেলে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করার কারণে আইনি সীমার মধ্যে থাকার সুবিধা পাবে। এখন কার ক্ষেত্রে কী অবস্থা হবে, তা নির্ভর করবে ওই কোম্পানির পোর্টফলিও এবং সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতির ওপর।
বাজার পরিস্থিতি: বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন শেষে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৩১২ পয়েন্ট। লেনদেন সামান্য বেড়ে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সূচক কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। ডিএসইতে দর কমেছে ১৯৯ শেয়ারের। দর বেড়েছে ১২৯ শেয়ারের এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৩টির। ব্যাংক খাতের দরে মিশ্র পরিস্থিতি ছিল।
ডিএসইর সেমিনার: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকুঞ্জে এর কার্যালয়ে স্টার্টআপ কোম্পানির বিনিয়োগ বিষয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে। এখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, পাঁচ বছরে দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিতে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। বিশেষ অতিথি বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, দুষ্ট লোকেরা শেয়ারাবাজারে এসে যেন পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে ডিএসই ও স্টার্টআপ বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনূসুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ। স্টার্টআপ কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আইন সহজ করার অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।