বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে। বিকল্প জ্বালানির দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারে নজর বাড়াতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। অধ্যাপক ইজাজ হোসেন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশেও। সংকটকালীন পরিস্থিতি মেনে নিয়ে সবাইকে ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে তা মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার অনেক চেষ্টা করেছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য। এখনও নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার কিছু সম্ভাবনা আছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন খুব একটা বাড়বে না। কিন্তু দেশ ও শিল্প তো থেমে থাকতে পারে না। বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে ভূমি ও সমুদ্রে কূপ খনন করার অনেক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

এতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার শিল্প ও কৃষিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু কারখানা আবাসিক এলাকার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। কেউ এ রকম সমস্যার কথা সরকারকে জানালে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, বাংলাদেশে এখন দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, কিন্তু এর জোগান নেই। দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান ও কূপ খনন কম হওয়ায় সংকট বেড়েছে। দেশে তিনটা কূপ খনন করলে একটায় গ্যাস পাওয়া যায়। আর বিশ্বে গড়ে ৫টি খনন করলে একটায় পাওয়া যায়। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কূপ খনন কম হয়েছে। গত ২২ বছরে মাত্র ২৫টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে কম কূপ খননকারী দেশ। ২০১৩ সালে সমুদ্র বিজয়ের পর মিয়ানমার রাখাইনে গ্যাস আবিস্কার করে এখন চীনে রপ্তানি করছে। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না। আট বছরে সাগরে একটা কূপ খনন করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প-কারখানাগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে শিল্প খাতকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান তিনি। গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বাপেপকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, গ্যাস সংকট থাকলে রপ্তানিতে মুখ থুবড়ে পড়বে। ডলার সংকটের মধ্যে দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, গ্যাস চুরি ও সিস্টেম লস বন্ধ করতে হবে।

এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজির যে চুক্তি করা হয়েছে, সেটা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।