বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারে ৩৬ দফা প্রস্তাব দিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। জ্বালানি খাতের সংস্কারে ২৫ দফা ও বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারে ১১ দফা প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্যাব আয়োজিত সংলাপে প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়।

ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক শামসুল আলমের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন এর সভাপতি গোলাম রহমান ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। আলোচনায় ক্যাব সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, কোষাধ্যক্ষ মনজুর ই-খোদা, প্রকৌশলী শুভ কিবরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলার এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জ্বালানি খাতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- গ্যাস সরবরাহে অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে ঘাটতি সমন্বয় করা, বিদ্যমান ভর্তুকি ১০ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ও উদ্বৃত্ত রাজস্ব ২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা এলএনজি আমদানি পর্যায়ে সমন্বয় করে গ্যাসের মূল্যহার ৯ দশমিক ৫৩ টাকা নির্ধারণ করা। তিতাসের বিতরণ চার্জ নির্ধারণে ২ শতাংশ সিস্টেমলস সমন্বয়ের প্রস্তাব এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর ১০ শতাংশ মুনাফা দেওয়ায় ক্যাব আপত্তি জানিয়েছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল বিইআরসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা, গ্যাস খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে ক্যাব।

বিদ্যুৎ খাতের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- সরকারি কোম্পানিগুলোর পুঞ্জীভূত মুনাফা, ক্যাপাসিটি চার্জের অর্থ ও সরকারি ভর্তুকি সমন্বয় করা, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা, কুইক রেন্টালের বিদ্যুতের অবৈধভাবে মূল্য বিইআরসি কর্তৃক পুনর্মূল্যায়ন করা ও পিডিবির রাজস্ব চাহিদায় মুনাফা ও করপোরেট ট্যাপ অন্তর্ভুক্তি না করা। এ ছাড়া সরকারি, যৌথ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংশ্নিষ্ট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাজারে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা; বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন, দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পিডিবি ও বিইআরসির কাছে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রস্তাব করা হয়েছে।