দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রপ্তানি খাত হুমকির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন। শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।

চলমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, হঠাৎ দাম বাড়ায় বড় ধাক্কা আসবে। একসঙ্গে ৪০-৫০ শতাংশ মূল্য না বাড়িয়ে সরকার ধাপে ধাপে বাড়াতে পারত। তখন সরাসরি এত প্রভাব পড়ত না। 

তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে কৃষি এবং পরিবহনেও। বেড়ে যাবে মূ্ল্যস্ফীতি। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। চাপে পড়বেন মধ্যম সারির ব্যবসায়ীরা।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা খুব একটা ভালো না। যে পরিমাণ অর্ডার আসছে, তাতে ইতোমধ্যে তিন মাসের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কী পরিস্থিতিতে আছি, তা বোঝাতে হলে 'মরিয়া প্রমাণ করিতে হইবে- আমি মারা গেছি।' 

রপ্তানি খাত বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, যখন চাহিদা কম থাকে তখন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দাম কমানোর বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করে। এখন চাহিদা কমে গেছে; ক্রেতারা দাম কমাতে চাপ দিচ্ছে। কারখানা টিকিয়ে রাখতে কম দামে পণ্য তৈরি করতে হবে। এতে ব্যবসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী উল্লেখ করে শীর্ষ এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সরকার নিশ্চয় কোনো বিষয় বিবেচনা করে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। আমরা আগামীকাল জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। তখন বুঝতে পারব আসল বিষয়টা কী? 

তিনি বলেন, এর আগে যখন জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল, তখন সরকার এ খাত থেকে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। সরকার চাইলে এখন ওই অর্থ থেকে সমন্বয় করতে পারত। আমরা অনেকবার বলেছি জ্বালানির দামে সমন্বয় করার জন্য। কিন্তু সরকার তা করেনি।