জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকরের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারদর ও মূল্য সূচকের উত্থান-পতনে শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন।

অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে দরবৃদ্ধির হারে এগিয়ে ছিল এমজেএল বাংলাদেশ, পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল।

তবে সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হয় দরপতনে। লেনদেন শুরুর মাত্র ৪ মিনিটে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২৭৯ পয়েন্টে নেমেছিল।

পরের ১৮ মিনিটে (১০টা ২২ মিনিটে) সূচকটি ওই অবস্থান থেকে ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩৩৬ পয়েন্ট ছাড়ায়। ১০টা ৩৭ মিনিটে ওই সূচকই আবার ৬৩০৬ পয়েন্টে নেমে আসে।

পতন ঠেকাতে একাধিক পক্ষ আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনে মূল্য সূচকের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এতে কিছু শেয়ারের দর ও সূচকে বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকা রাখছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, পদ্মা অয়েল, বেক্সিমকো ফার্মা, যমুনা অয়েল, ওরিয়ন ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারের দরবৃদ্ধি।

বিপরীতে সূচককে নিম্নমুখী করার চেষ্টায় আছে বেক্সিমকো লিমিটেড, বিকন ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন। 

ধারাবাহিক উত্থান-পতনের মধ্যে লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা ১১টায় ডিএসইএক্স সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩১৮ পয়েন্ট অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এ সময় ১৪৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৪৫ শেয়ার এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮৪টি।

লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ৩১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

এ সময় ওষুধ ও রসায়ন, ব্যাংক বহিভর্‚ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ শেয়ার দরে বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

বিপরীতে বীমা এবং বিবিধ খাতের অধিকাংশ শেয়ারকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের মত হলো- কারখানা ও অফিস চলে গ্যাস ও বিদ্যুতে। তবে পণ্য কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনে তেলের বহুল ব্যবহার হয়। এ কারণে সকলের খরচ বাড়বে, যা মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আছে।