বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মানুষের কষ্ট বাড়বে, এটা ঠিক। তবে কখনও কখনও সুদিনের জন্য কষ্ট করা লাগে। উদ্দেশ্যবিহীন মানুষের কষ্ট বাড়বে- এমন কোনো সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা কখনও নেন না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে। তাই সাময়িক কিছু কষ্ট সবাইকে স্বীকার করতে হবে। এটি মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) উদ্যোগে 'বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতি ও বাণিজ্য ভাবনা' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

টিপু মুনশি বলেন, হঠাৎ করে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধুর। দেশভাগের আগে ব্যবসা-বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই ছিল পাকিস্তানের হাতে। সেই বিষয়টি সামনে রেখেই স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যান তিনি। তাঁর স্বপ্নই আজকের অর্থনৈতিকভাবে উন্নত বাংলাদেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, এখনও একটি চক্র বলে থাকে- একটা দুর্ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃষ্ট হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যখন ছাত্র ছিলেন, তখনই তিনি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। এখন যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তাই সেই চক্র আবার সক্রিয় হচ্ছে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আবারও আগের মতো সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে দেশের রিজার্ভে একটু সমস্যা হয়েছে। এটা কেটে যাবে। বর্তমান সরকার গত ১৫ বছরে ব্যবসা খাতে অনেক উন্নয়ন করেছে; ব্যক্তি পর্যায়ে উন্নয়ন হয়েছে। তাই আবারও সরকার গঠনে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এতে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে সমহারে ভেবেছিলেন। কৃষিতে কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যমুক্তির উপায় ও শিল্প-বিকাশের পেছনের শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সবুজবিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বর্তমান সংকট নিরসনেও পথ দেখাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন। তাঁর দেখানো সেই পথেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বেশিরভাগ দেশের চেয়ে ভালো করছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি লড়াকু মন দিয়ে গেছেন। সেটিই সবচেয়ে বড় সামাজিক পুঁজি। সেই পুঁজি ব্যবহার করেই এই সংকট থেকে সফল হওয়া সম্ভব।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব বিচক্ষণ। আশা করি, আইএমএফের কোনো অন্যায় শর্ত মেনে তাদের থেকে ঋণ নেওয়া হবে না।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, এমসিএইর সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বাংলাদেশ ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু প্রমুখ।