অর্থনীতির নতুন ঝুঁকি হিসেবে হাজির হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর ফলে ইতোমধ্যে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও সারের দর বেড়েছে। এতে স্বল্প এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলও কমবেশি এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র পথ হচ্ছে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং আক্রান্ত দেশগুলোতে মানবিক সহায়তা বাড়াতে জাতীয় প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।

রোববার একক বক্তৃতায় এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ এশিয়া ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট অধ্যাপক ইয়ান ইসলাম। 'মাইক্রো পলিসি রেসপন্স টু কভিড-১৯ ইন ইমার্জিং ইকোনমিস: রিসেন্ট আউটকামস অ্যান্ড ইভলভিং চ্যালেঞ্জেস' শীর্ষক এই বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

রাজধানীর গুলশানে সানেমের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান এবং গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা উপস্থিত ছিলেন।

মূলত করোনার বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন ইয়ান ইসলাম। তাঁর মতে, করোনার অভিঘাত খুব সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। করোনার টিকা প্রয়োগে অনেক দেশ এবং এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে করোনায় এ দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও বৈষম্য তৈরি করেছে। এ বৈষম্য নির্মূল করা না গেলে জনমিতির লভ্যাংশের সুবিধা দ্রুত হারাতে হবে। তিনি বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গণপরিবহন-সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। এ বিষয়গুলো কেন নিশ্চিত করা হয় না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বড় ঋণ, চলতি হিসাবে ঘাটতি কতটা উদ্বেগের কারণ সে প্রসঙ্গ তিনি বলেন, এটা ঠিক ঘাটতি রয়েছে। তবে এ ঘাটতি ২০২৭ সাল নাগাদ কমে আসবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে মনে করেন ইয়ান ইসলাম। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও এক অঙ্কের ঘরেই রয়েছে।

এ নিয়ে এত উদ্বেগ এবং সমালোচনার কারণ হিসেবে করোনাভাইরাসকে অংশত দায়ী করেন তিনি। বলেন, অতিমারি করোনার অভিঘাত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করেছে।