আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার নদীবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের রেল সংযোগ কার্যক্রমে অর্থায়নে আগ্রহী নয় ভারত। প্রকল্পের ওই অংশের জন্য ঋণ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না ভারত সরকারের কাছ থেকে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমেই রেল সংযোগ কার্যক্রমের ব্যয় চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুনর্গঠন করা হয়েছে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি)। সংশোধন করা হচ্ছে গোটা প্রকল্পই। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। বাস্তবায়ন আরও পিছিয়ে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ভারত সরকারের ৭৩৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা। ভারতীয় ঋণ না পাওয়ায় সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রকল্পের ব্যয় জোগান দেওয়া হচ্ছে। ঋণ জটিলতায় সময় ক্ষেপণের পর প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৪৫৮ কোটি টাকা। এ নিয়ে মোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ৭৫১ কাটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) মূল প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। অর্থের সঙ্গে প্রকল্পের নির্মাণকাল বাড়ছে তিন বছর। আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পের রেল সংযোগ কার্যক্রমে ভারতীয় এলওসির পরিবর্তে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ছাড়া ড্রইং এবং ডিজাইনেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বন্দরে কিছু অবকাঠামো সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। পরামর্শক ব্যয় বৃদ্ধিসহ আরও কিছু ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে সংশোধনী প্রয়োজন।

মূল প্রকল্পে প্রস্তাবনায় বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাহাজ আসা-যাওয়া করে। কার্গো লোড-আনলোড হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট ও ট্রেড প্রটোকল চুক্তির অধীনে আশুগঞ্জকে 'পোর্ট অব কল' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বন্দরের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোই প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রাবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন সুবিধা সৃষ্টির উদ্দেশ্য রয়েছে প্রকল্পের। গুরুত্ব বিবেচনায় নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিবেশী দেশে কনটেইনার পরিবহন সহজ হবে। এর ফলে আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে চট্টগ্রাম, মোংলাসহ অন্যান্য বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে কনটেইনার পরিবহনও সহজ হবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করছে কমিশন।

এ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- রেলপথ সংযোগ, টাওয়ার নির্মাণ, প্রায় ৪৪ হাজার বর্গমিটার কার্গো টার্মিনাল অবকাঠামো নির্মাণ, ৩৮টি কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি কেনা, প্রায় ৩২ একর ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৩২ হাজার বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ ইত্যাদি।