রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও বোতলের সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদুল আজহার পর দুই কার্টন অর্ডার দিলেও দ্বিগুণ গছিয়ে দিচ্ছিলেন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে অগ্রিম টাকা দিয়েও তেল মিলছে না। 

নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই ডিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। তবে সরবরাহ ঠিক থাকলেও খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই বাড়িয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। যদিও কোম্পানিগুলোর দাবি, নিয়মিত বাজারে তেল সরবরাহ করছেন তাঁরা।

গত ৩ আগস্ট সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে (বিটিটিসি) চিঠি দেয় মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০, এক লিটারের বোতল ২০৫ ও পাঁচ লিটারের বোতল ৯৬০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলেও খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়ে গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কলমিলতা বাজার, মহাখালী কাঁচা বাজার, তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮৫ থেকে ১৯০ এবং পাম অয়েল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বোতলের গায়ে লেখা দরের চেয়ে বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। এ জন্য এসব এলাকায় বোতল সয়াবিন নির্ধারিত দরে বিক্রি হলেও বেশিরভাগ ক্রেতা এসে ফিরে যাচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের কারও কারও কাছে পাঁচ লিটারের দু-একটি বোতল থাকলেও এক বা দুই লিটারের বোতল নেই। আবার কোনো কোনো দোকানে বোতলের সয়াবিন তেলই নেই। তবে কারওয়ান বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেশি দেখা গেছে।

মহাখালী কাঁচা বাজারের মাসুমা স্টোরের স্বত্বাধিকারী আল-আমিন সমকালকে বলেন, কোরবানি ঈদের পর থেকে তেলের কোনো সংকট ছিল না। দুই কার্টন বললে কোম্পানির লোকজন তিন-চার কার্টন গছিয়ে দিতেন। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে তাগাদা দিলেও তেল দিচ্ছেন না তাঁরা। কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম বাড়বে। তখন বাড়তি দরের তেলের কোনো সংকট হবে না।

বিজয় সরণি সংলগ্ন কলমিলতা বাজারের ইমরান রাইস এজেন্সির কর্ণধার মো. ইমরান জানান, তাঁর কাছে আগে কেনা কয়েকটি বড় বোতল আছে। কোম্পানিগুলো এখন তেল দিচ্ছে না। বাড়তি দাম ধরতেই কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, অন্যরা কী করছে, জানা নেই। তবে আমরা প্রতিদিনই ডিলারদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তেল বাজারে ছাড়ছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি অনুবিভাগ) এ কে এম আলী আহাদ খান সমকালকে বলেন, মিল মালিকদের প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করলে ট্যারিফ কমিশন পর্যালোচনা করবে।