টানা তৃতীয় দিন বাড়ল শেয়ারদর, সূচক ও লেনদেন। তবে সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে দরবৃদ্ধির যে ধারা ছিল, গতকাল বুধবার লেনদেনের দ্বিতীয় অর্ধে তাতে টান পড়ে। শেষ পর্যন্ত বড় খাতগুলোর মধ্যে বীমা এবং ছোট খাতগুলোর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, সিমেন্টসহ বেশিরভাগ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। সে তুলনায় নিষ্প্রভ ছিল বড় খাতগুলোর শেয়ার।

দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে গতকাল ৩৮০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৬টির দর বেড়েছে, দর হারিয়েছে ১৩২টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৯২টির দর। এর মধ্যে ৬৫ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়েছে।
লেনদেনের শেষের দিকের নিম্নমুখী ধারা সত্ত্বেও প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬২৪১ পয়েন্টে থেমেছে। যদিও লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে সূচকটি মঙ্গলবারের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬২৬১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। এর পরই ক্রমেই শেয়ারের দর হারানোয় সূচকটি লেনদেনের শেষ মুহূর্তে ৬২৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে।

বাজার-সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দোদুল্যমানতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঠিক কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন বা ধরে রাখবেন, সে সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় হুটহাট 'এ শেয়ার বিক্রি করে ওই শেয়ার কিনছেন' ধরনের লেনদেন করছেন অনেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা লোকসান করছেন এবং পুঁজি হারাচ্ছেন।

গতকালের খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক দিনের অস্থিরতার পর বীমা খাতের সিংহভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ৫৪টি। গতকাল এর মধ্যে ৫৩টির কেনাবেচা হয়েছে, যার ৪৯টিরই দর বেড়েছে, কমেছে একটি এবং বাকি সাতটির দর অপরিবর্তিত। সার্বিক হিসাবে গতকাল বীমা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এ ছাড়া সিমেন্ট এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারদরে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত দুইটির দর। গড়ে এ খাতের শেয়ারদর প্রায় ৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ১১টি। এর সবক'টির দরই গতকাল বেড়েছে। এ খাতের গড় দরবৃদ্ধির হার প্রায় দেড় শতাংশ।

বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দরবৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। খাতটির লেনদেন হওয়া ২২ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে পাঁচটির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩টির। বস্ত্র খাত বেশ কিছু দিন ধরে লেনদেনের শীর্ষ স্থান দখল করে আছে। এ খাতের বেশ কিছু শেয়ারের দর সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। কিন্তু গতকাল এ খাতের লেনদেন হওয়া ৫৭ শেয়ারের মধ্যে ৩৪টির দর কমেছে, বেড়েছে
মাত্র ১০টির।

অন্য সব খাতে মূলত মিশ্রধারা লক্ষ্য করা গেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ২৩ কোম্পানির মধ্যে ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯টির। প্রকৌশল খাতের ৩২ কোম্পানির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ২১টির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন হওয়া ৩১ শেয়ারের মধ্যে ১১টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪টির দর। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২১ শেয়ারের মধ্যে আটটির দর বেড়েছে, কমেছে সাতটির। বাকি শেয়ারগুলোর দর অপরিবর্তিত।

এমন অবস্থার মধ্যে গতকাল একমাত্র আনলিমা ইয়ার্ন কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ৪১ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে, যা গত ১৭ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। বিপরীতে ৬৫ কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়েছে।

গতকাল ডিএসইতে ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে একক খাত হিসেবে বস্ত্রের সর্বোচ্চ ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোটের পৌনে ১৮ শতাংশ। একক কোম্পানি হিসেবে বেক্সিমকো লিমিটেডের সর্বোচ্চ ৮২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

বিষয় : শেয়ার বাজার

মন্তব্য করুন