শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দিলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল আমদানি হয়নি। অন্যদিকে বাজারে চালের দাম বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে চাল আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক ১৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ৭ আগস্ট শুল্ক প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মৌসুমেও কমেনি চালের দাম। বরং কয়েক দফায় বেড়েছে। দামের লাগাম টানতে সরকার আমদানি শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। এর পর বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে গত ৩০ জুন থেকে এ পর্যন্ত ১০ লাখ টনের বেশি চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আমদানি হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টনের মতো। তাই আমদানিতে উৎসাহ দিতে সরকার নতুন করে শুল্ক্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আমদানিকারক ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে চালের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করছেন না। শুল্ক কমানো হলে ব্যবসায়ীরা আমদানিতে উৎসাহিত হবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ডলারের দাম বাড়ার কারণে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল আমদানিতে তাঁদের খরচ পড়ে ৭০ টাকার ওপরে। ফলে তাঁরা অনুমতি নিলেও আমদানিতে আগ্রহী নন। আমদানি না হওয়ায় দেশে চালের দাম বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা যায়, জুলাই মাসের শেষদিকে চাল আমদানিতে শুল্ক কমাতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্তিসভা কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। এর পর ৩ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখা থেকে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে।